শাহিন চৌধুরী, নিজস্ব প্রতিবেদক : আর্থিক কেলেঙ্কারি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলবাট্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আলবাট্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম দায়িত্বে থাকাকালীন বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মে জড়িত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পরিচালনা পর্ষদের দাবি, আত্মসাৎ করা অর্থ শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ ছিল। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে এবং অভিভাবকদের আস্থায় চরম আঘাত হেনেছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অভিযোগের পরপরই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন করা হয় এবং একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলামকে প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। পরিচালনা পর্ষদ আরও জানায়, ২০২১/২২ হিসেবে ১১ লাখ ১২ টাকার হিসেব বের হলে, সকলের উপস্থিতিতে আলোচনার একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার দোষ স্বীকার করেন এবং দুইটি চেকের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত দিতে সম্মত হন। এর মধ্যে ৫ লাখ টাকা ইতোমধ্যে চেকের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ২০২১ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সকল আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ অডিট কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, বহিষ্কৃত আশরাফুল ইসলাম বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায় ‘ব্রাইট স্কলার্স স্কুল’ নামে একটি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেন, যা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আইনের পরিপন্থী। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ জানানো হলে সংশ্লিষ্ট ইএমআইএস কোড সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন, যার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
পরিচালনা পর্ষদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন মাধ্যমে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং কিছু সাবেক শিক্ষকের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে পরিচালনা পর্ষদ জানায়, বিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে এবং শিক্ষাকার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়। শেষে, অর্থ আত্মসাতে অভিযুক্ত ও প্রমাণিত আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত শাস্তি এবং বেআইনিভাবে স্থাপিত ‘ব্রাইট স্কলার্স স্কুল’ দ্রুত অপসারণ ও বন্ধের দাবি জানানো হয়, যাতে এলাকার শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকে এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত না হন। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি এসএ সামিম তার লিখিত বক্তব্য পাঠে তার দৃশ্যগুলোর শাস্তি চেয়ে সাংবাদিক মাদ্ধমে সহযোগিতা চেয়েছেন।