নিজস্ব প্রতিবেদক।। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশব্যাপী সাত দিনের শোক পালন করছে দলটি। কিন্তু সেই শোকের আবহ উপেক্ষা করে মানিকগঞ্জে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জেলা পরিবহন মালিক সমিতির ‘একতরফা’ নির্বাচন সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে জেলা শ্রমিকদলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে। লোকচক্ষুর আড়ালে রাতারাতি আয়োজিত এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাকে সভাপতি পদে নির্বাচন করার সুযোগ করে দেওয়া এবং মাদক ব্যবসায়ীকে নির্বাচন কমিশনে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপির ঘোষিত সাত দিনের শোক কর্মসূচির পঞ্চম দিনে গত রাতে শহরের সিটি ড্রিম কনভেনশন সেন্টারে এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। সাধারণ নেতাকর্মী ও মালিকদের বড় একটি অংশকে অন্ধকারে রেখে তড়িঘড়ি করে এই ‘মনগড়া’ নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটন ও সিনিয়র সহ-সভাপতি পীর বাবুল হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদে পরিবহন সেক্টরকে কুক্ষিগত করতেই এই ‘পকেট নির্বাচন’ করা হয়েছে। যেখানে শোকের সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত থাকার কথা, সেখানে ফলাফল ঘোষণার পর বিজয় উল্লাস ও ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় শ্রমিকদল নেতারা। তাদের অভিযোগ, এই নির্বাচনে মোঃ নান্নু মিয়া নামক এক আওয়ামী লীগ নেতাকে সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। পৌর বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দীন আহমেদ যাদু-কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হলেও, ৫ সদস্যের কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন মিজান নামের এক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। জানা গেছে, মিজানের নামে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং গত বছর হেরোইনসহ গ্রেফতার হয়ে তিনি ৪ মাস জেল খেটেছেন।
সাধারণ মালিকদের ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ করে নিজেদের পছন্দের লোক দিয়ে ভোটার তালিকা সাজানোর অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিকদল নেতা জানান, “দলের চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে আমরা যখন শোকাহত, তখন রাজ্জাক লিটন ও পীর বাবুল হোসেন ক্ষমতার লোভে মত্ত। তারা নিজেদের পকেট ভারী করতে আওয়ামী লীগের লোক ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে এই ভুঁইফোড় নির্বাচনের নাটক সাজিয়েছেন। এটি সরাসরি দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী।” এছাড়াও আব্দুর রাজ্জাক লিটন জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি বাবুল সরকারের আপন ভাগিনা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর আব্দুর রাজ্জাক লিটন, পীর বাবুল হোসেন এবং জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সিহাব সুমনসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী নবনির্বাচিত কমিটির সাথে উল্লাস করছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক লিটন ও পীর বাবুল হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডকে অবহিত করা হবে এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিডি.কম/শিরিন