নিজস্ব প্রতিবেদক: আইপিএল ২০২৬ আসর শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেটমহল। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সরাসরি নির্দেশে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রিলিজ করেছে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)।কেকেআর-এর দাবি, মাঠের বাইরের সাম্প্রতিক কিছু ইস্যু ও বিতর্কের জেরে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে টুর্নামেন্টের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর প্রভাব পড়েছে দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্যের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। শনিবার কেকেআর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আইপিএলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিসিসিআই আমাদের মোস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া এবং আলোচনার মাধ্যমেই এই রিলিজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বিসিসিআই আমাদের বদলি খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে, যার বিস্তারিত পরে জানানো হবে। এই বিষয়ে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘চারপাশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কেকেআরকে এই নির্দেশনা দিয়েছি। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি চাইলে অন্য কোনো খেলোয়াড়কে তার বদলে দলে নিতে পারবে।’
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে কিনেছিল কেকেআর। তবে তাকে দলে নেওয়ার পর থেকেই ভারতে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন মহলের বিরোধিতার মুখে পড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। বিশেষ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক ‘সহিংসতা’র খবর সামনে আসার পর এই বিতর্ক তীব্রতর হয়। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র নেতা কৌস্তভ বাগচীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কলকাতায় বাংলাদেশি ক্রিকেটারের খেলার বিরোধিতা করেন। কয়েকজন ধর্মীয় নেতা আইপিএল বয়কট, হামলার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হুমকি দিতে শুরু করেন। এমনকি কেকেআরের সহ-স্বত্বাধিকারী শাহরুখ খানকেও এই ইস্যুতে সমালোচনার শিকার হতে হয়। বিসিসিআই’র দাবি, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে মোস্তাফিজকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
ক্রিকেটের বিচারে এটি কেকেআরের জন্য বড় ক্ষতি। স্লোয়ার ও কাটারের জন্য পরিচিত মোস্তাফিজকে তাদের বোলিং আক্রমণের প্রধান অস্ত্র ধরা হচ্ছিল। টি-টোয়েন্টিতে তিনি নিঃসন্দেহে এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার। এই ঘটনা দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যও বড় ধাক্কা। মোস্তাফিজ ভারতে খুব জনপ্রিয়। তাকে দলে পাওয়া মানেই বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক দর্শকের নজরে থাকা। বিশেষ করে ফ্র্যাঞ্চাইজির ফেসবুক পোস্টের ভিউ এবং রিচ অনেক বেড়ে যায়। যতবার আইপিএলে খেলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় হাইপের দিক থেকে শীর্ষ পর্যায়েই ছিলেন মোস্তাফিজ।
এবারের নিলামে সেই হাইপ বোঝা যাচ্ছিল, যখন তাকে পেতে আসরে নেমেছিল তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি। যার ফলাফল, রেকর্ড দামে তাকে কিনে নিতে বাধ্য হয় কলকাতা। কিন্তু দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব এবার সরাসরি ক্রিকেটে পড়ল। এদিকে আজকের এই ঘটনায় দুই দেশের ক্রিকেট মহলে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকে বলছেন, দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের কারণেই এমনটা ঘটেছে। এতে সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি চরম আকার ধারণ করবে এবং ক্রিকেটকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। আবার অনেকে সরাসরি অবস্থান নিচ্ছেন পক্ষে-বিপক্ষে। বাংলাদেশের কেউ কেউ আইপিএল বয়কটের ডাক দিচ্ছেন, আবার ভারতের অনেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ায় উল্লাস প্রকাশ করছেন।