খুলনা প্রতিনিধি : অদম্য এক মেধাবী শিক্ষার্থীর নাম নুসরাত হোসেন ফারিহা। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে পিছিয়ে পড়া অবহেলিত এক জনপদ খুলনার কয়রা উপজেলার মঠবাড়ি গ্রামের সরদার বাড়ির মো. শওকত হোসেন ও আয়েশা হোসেনের সন্তান। শত প্রতিকুলতা পেরিয়েও ভর্তি হয়েছে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে। তবে আর্থিক প্রতিবন্ধকতার কবলে পড়ে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক হতে পারবে কিনা এই শঙ্কায় রয়েছে তার পরিবার।
জেএসসি ও এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ সহ এইচএসসি পরীক্ষায় পেয়েছেন জিপিএ-৫। মেধাবী নুসরাত এবারের ভর্তি পরীক্ষায় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়সহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।
কিন্তু শতকষ্ট করে ভর্তি হতে পারলেও অর্থের অভাবে মেডিকেলে পড়া চালিয়ে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার। সে চলতি বছরের ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ইউনিটে মেধাক্রম-৫৪২, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিট-১ এ মেধাক্রম-৩৮০৭, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক ও ঘ ইউনিটে মেধাক্রম-১৪৭৯ ও ১৪৬৬। এছাড়া মেডিকেল (গইইঝ)-রোল নং-৪০০৮৪৭, মেধাক্রম-১৮৮৫। তবে ছোট বেলা থেকে লালিত স্বপ্ন অনুযায়ী বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে।
নুসরাত বলেন, ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল চিকিৎসক হয়ে নিজেকে গরিব-অসহায় মানুষের সেবায় নিয়োজিত করবো। আলাহর অশেষ মেহেরবানিতে মেডিকেলে চান্স পেয়ে ভর্তিও হয়েছি। কৃতজ্ঞতা জানাই শ্রদ্ধেয় পিতামাতাসহ আমার সকল শিক্ষকদের প্রতি। সে সকলের দোয়া ও সহযোগীতা চায়।
নুসরাতের পিতা মোঃ শওকত হোসেন বলেন, দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে নুশরাত বড়। তার পড়ালেখায় ছোটবেলা থেকে ব্যাপক ইচ্ছা ছিল। নিজেদের যত কষ্টই হোক ঋণ করে, খেয়ে না খেয়ে এ পর্যন্ত পড়ালেখার খরচ বহন করে আসছি। এছাড়া স্কুলের শিক্ষকদের ব্যাপক সহযোগীতা ছিল। তবে এখন সংসারের খরচ বাড়ায় ও আমার বয়স বাড়ায় আগের মত আয় করতে না পারায় খরচ মেটানো নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি। তিনি মেয়ের লেখাপড়ার সহায়তার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।