আমাদেরবাংলাদেশ ডেস্ক।। বিজয় দিবসের একদিন আগে প্রকাশ করা রাজাকারদের তালিকায় কিছু মুক্তিযুদ্ধাদের নাম আসায় সারাদেশে এনিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। দ্রুত এই তালিকা সংশোধন ও যারা তালিকা করেছে, তাদের বিচার দাবি করেছেন কেউ।
বরিশালের মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তপন কুমার চক্রবর্তী। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নয় নম্বর সেক্টরে মেজর আবদুল জলিলের নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ করেছেন তিনি। বাবা সুধীর কুমার চক্রবর্তীকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদর বাহিনী।
এই মুক্তিযুদ্ধা অ্যাডভোকেট তপন কুমার চক্রবর্তীর ও তার মা উষা রানী চক্রবর্তীর নাম এসেছে সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া রাজাকার তালিকায়।
বরিশালের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারা এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, একটি মহল শত্র্রুতা করে এই পরিবারের সদস্যদের নাম তালিকায় দিয়েছে। সরকারি গেজেটভুক্ত, নিয়মিত সম্মানী পাওয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদের স্ত্রীর নাম স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায় রাখায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তপন চক্রবর্তীর মেয়ে বাসদ নেতা ডা. মনীষা চক্রবর্তী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এই ঘটনায় বিজয় দিবসের প্রাক্কালে ‘শুধু মুক্তিযোদ্ধাকে নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপমান।’ রাজনৈতিক কারণে এই তালিকায় তার বাবা ও দাদীর নাম রাখা হয়েছে বলে মনে করেন মনীষা।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় যাকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়েছে, তাকেই আবার রাজাকার আখ্যা দিয়ে তালিকা প্রকাশ করেছে। এটি লজ্জাজনক ও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।