
খুলনা সংবাদদাতা।। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, বীমা একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলেও সেবা বীমার অন্যতম কাজ। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে বীমা খাতে মানুষের আস্থা ফিরিরে আনতে হবে।
তিনি শুক্রবার দুপুরে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে দুই দিনব্যাপী বীমামেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বীমা পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন। সরকার বীমার উন্নয়ন ও বীমাকে সেবামুখী করতে বীমা নীতি-২০১৪ প্রণয়ন করেছে। এছাড়া বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন এবং ১ মার্চকে জাতীয় বীমা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। এসময় প্রতিমন্ত্রী বীমা কর্মীদের বীমার সুযোগ-সুবিধা ও নিয়মনীতিগুলো পরিস্কারভাবে মানুষকে জানানোর পর গ্রাহক করার নিদের্শ দেন।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুর রহমান পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্মসচিব মোঃ হুমায়ুন কবির, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এসএম ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের সভাপতি বিএম ইউসুফ আলী, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্য ড. এম মোশাররফ হোসেন ও বোরহান উদ্দিন আহমেদ। স্বাগত বক্তৃতা করেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্য গকুল চাঁদ দাস।
পরে প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন বীমা কোম্পানির বীমা দাবির চেক গ্রাহকদের মাঝে হস্তান্তর এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
এর আগে এক বর্ণাঢ্য র্যালী খুলনা সার্কিট হাউজ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সার্কিট হাউজ মাঠে শেষ হয়। আগামীকাল শনিবার শেষ হবে চতুর্থ এ বীমা মেলা।
বীমা মেলা উপলক্ষ্যে শুক্রবার সকাল থেকেই বীমা গ্রাহক ও দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করে মেলা প্রাঙ্গনে। এদিকে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়তে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে খুলনা বীমা মেলার স্টলসমূহ। নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সরকারি বেসরকারি লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর মূখ্য নির্বাহীসহ কর্মকর্তা ও কর্মীরা উপস্থিত রয়েছেন মেলা প্রাঙ্গনে।
বীমামেলায় রাষ্ট্র মালিকানাধীন দুটি কর্পোরেশন এবং ৩১টি লাইফ ও ৪৫টি নন লাইফ বীমা কোম্পানির ৭৮টি স্টল রয়েছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সকলের উন্য উন্মুক্ত থাকবে।
বীমা কোম্পানিগুলো ছাড়াও মেলায় বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ), বীমা বিষয়ে প্রশিক্ষণ একাডেমি বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমি (বিআইএ) এবং মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম (বিআইএফ) এর স্টল রয়েছে।
এসব স্টল থেকে বীমা বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ বা সমস্যার সমাধান সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়া বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন বীমা পণ্য সম্পর্কে তথ্যাদিসহ গ্রাহকদের বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এছাড়া বীমা বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও পরামর্শ নেয়া হচ্ছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর স্টলে।
সবার জন্য উন্মুক্ত ও প্রবেশ ফি মুক্ত এ বীমা মেলা চলবে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আইডিআরএ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আয়োজিত এ মেলার সহযোগিতায় রয়েছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম এবং বীমা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।