আসাদুর রহমান,যশোর সংবাদদাতা।। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রান্তিক চাষীদের কাছ থেকে সরকারী খাদ্য গুদামে যে ধান ক্রয় করা হচ্ছে তা নিছক লোক দেখানো ছাড়া আর কিছুই না। সরকার প্রান্তিক চাষীদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করে আর্থিকভাবে চাষীদের স্বচ্ছলতার মুখ দেখাতে চাইলেও বাস্তবে স্বচ্ছলতার মুখ দেখছে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীরা। আর সেই সমস্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে তাল মিলিয়ে ধান ক্রয়ের সহযোগীতার নামে প্রান্তিক চাষীদের সাথে প্রতারনা করছে কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যাায়ের এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গা ভাসিয়ে বেড়ানো কিছু ব্যক্তি।
স্থানীয় ঐ সমস্ত কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিদের যোগসাজসে কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের অসাধু কর্মকর্তারা প্রান্তিক চাষীদের লটারীর নামে বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছে। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের অসাধু কর্মকর্তারা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রান্তিক চাষীদের নামের লোক দেখানো তালিকা তৈরী করে চলে যায়। পরে গোপনে ঐ সমস্ত কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বুদ্ধিমত্তায় প্রকৃত প্রান্তিক চাষীদের নাম বাদ দিয়ে ভুমিহীন, ব্যবসায়ী, অকৃষক, তোষামোদকারীদের নাম তালিকায় লিখিয়ে প্রশাসনের সামনে তুলে ধ’রে লটারীর মাধ্যমে প্রান্তিক চাষী হিসাবে গণ্য করা হয়।
লটারীর মাধ্যমে যে সম্স্ত প্রান্তিক চাষীদের কার্ডের তালিকা তেরী করা হয় তাদের কাছ থেকে অসাধু ব্যবসায়ীরা ১২০০/–৫০০০/ টাকায় কার্ড ক্রয় করে নির্বিঘেœ সরকারী খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে চাষীদের প্রতি সরকারের যে সুদৃষ্টির চিন্তা-ভাবনা তা একেবারেই ভেস্তে যাচ্ছে। আর সাধারণ চাষীরা সরকারের উপর নানারকম মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। এবিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জামশেদ আলী জানান, সরকার দলীয় স্থানীয় নেতারা আমাকে যেভাবে চলতে বলে আমি সেইভাবে চলি।
নির্বাসখোলা ইউনিয়নে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জামশেদ আলী ২০০৮ সালে ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষি অফিসে যোগদান করার পর থেকে ইউনিয়নের বেড়ারুপানি, মির্জাপুর, খরুষা, নির্বাসখোলা ও রাজারডুমুরিয়া গ্রামে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তার পেশাগত দায়িত্ব পালনে কর্ম এলাকায় প্রতি সপ্তাহে চারদিন কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করার নিয়ম থাকলেও প্রতি মাসে তিনি একবারও পায়ের ধুলি ফেলেন কিনা সন্দেহ। কিছু কিছু কৃষক আজও তাকে চোখে দেখেনি বলে জানা গেছে। বেড়ারুপানি গ্রামের সিরাজুল, নুরইসলাম, মির্জাপুর গ্রামের খোকা, আলফাজ, খরুষা গ্রামের আব্দুল আজিজ, নিজাম, নির্বাসখোলা গ্রামের মহাসিন, মাহবুব ও রাজারডুমুরিয়া গ্রামের লাল্টু জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জামশেদ আলীর কাছ থেকে কৃষি বিষয়ক কোন পরামর্শ নেওয়ার জন্য তার দেখা পাওয়া যায় না।
তিনি তার কর্ম এলাকায় পদার্পন করলেও সরকার দলীয় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে চা-চক্রে মতবিনিময় করে চলে যান। ফলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জামশেদ আলীর কর্ম এলাকার কৃষকরা তার কাছ থেকে কৃষি বিষয়ক কোন পরামর্শ থেকে বরাবরই বঞ্চিত হয়। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জামশেদ আলীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ক’রে উল্লেখিত এলাকার কৃষকদের কৃষি কাজে আগ্রহী ও সহায়তা করার জন্য দাবি জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী কৃষক সমাজ। ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।