শেরপুর সংবাদদাতা॥ শেরপুরে এবার জেলা আইনজীবী সমিতির (বার) সভাপতি এডভোকেট একেএম মোসাদ্দেক ফেরদৌসীসহ আরও ৯ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
২৮ জুলাই মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবের ফলাফল উদৃত করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র ওই তথ্য নিশ্চিত করে। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩শ ৮ জনে পৌঁছলো। এদিকে করোনা উপসর্গে নমুনা দেওয়ার পরও বার সভাপতি টানা ৩ দিন আদালত ও বারে সহকর্মীদের সাথে চলাফেরা করায় বিচারক ও আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অন্যদিকে, বুধবার সভাপতির সংস্পর্শে যাওয়া সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমকে মুরাদুজ্জামানসহ ৪ জন করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছেন। অন্যদেরকেও নমুনা দিতে বারের তরফ থেকে দেওয়া হয়েছে নোটিশ।
করোনা ফোকালপার্সন ডা. মোবারক হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাতে প্রাপ্ত মোট ৫৬টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে সদর উপজেলায় ৮ জন ও নকলায় ১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২শ ৭১ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। বর্তমানে ৩৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মধ্যে কেউ জেলা সদর হাসপাতাল বা কেউ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৪ হাজার ৪শ ২১ জনের নমুনা সংগ্রহ হয়েছে। ফলাফল পাওয়া গেছে ৪ হাজার ৩শ ৮ জনের। আর অপেক্ষায় রয়েছে আরও ১১২ জনের নমুনার ফলাফল।
এদিকে, একাধিক দফায় জ্বর থাকায় গত ২৬ জুলাই রবিবার রবিবার সকালে জেলা সদর হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য নিজের নমুনা দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোসাদ্দেক ফেরদৌসী। মঙ্গলবার রাতে তার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ পাওয়ার পরপরই তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে শহরের গৃদ্দানারায়ণপুরস্থ বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন। তিনি জানান, প্রথমে হঠাৎ জ্বর আসে। পরে প্যারাসিটামল খাওয়ার পর সুস্থ হয়ে যান। এর কয়েকদিন পর আবারও তার জ্বর হওয়ায় রবিবার নমুনা পরীক্ষা করতে দেন। জ্বর ছাড়া আর কোনো উপসর্গ নেই বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, তিনি করোনা উপসর্গে নিজের নমুনা দেওয়ার পরও রবিবার বারে নির্বাহী পরিষদের কর্মকর্তাদের সাথে মিলিত হওয়াসহ টানা ৩ দিনই আদালত ও বারের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিয়েছেন। আর এ জন্য কমিটির কর্মকর্তাগণসহ তার সংষ্পর্শে আসা সহকর্মীদের পাশাপাশি খোদ বিচারকসহ অন্যান্যরাও চরম আতঙ্কে ভুগছেন।
এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমকে মুরাদুজ্জামান বুধবার দুপুরে জানান, সভাপতির করোনা উপসর্গ বা নমুনা দেওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা ছিলো না। এ জন্য তার রির্পোট পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সংষ্পর্শে যাওয়া নির্বাহী পরিষদের কর্মকর্তা ও অন্যান্য সহকর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়ার পাশাপাশি হোম কোয়ারিন্টিনে থাকতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে তিনিসহ নির্বাহী পরিষদের একাধিক কর্মকর্তা ও বারের ২ জন কর্মচারীর করোনা পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে নমুনা দেওয়া হয়েছে।