নিজস্ব প্রতিবেদক।। পরিবেশবান্ধব কাগজের কলম তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন যশোরের নাসিমা আক্তার। রঙিন কাগজ, আঠা, শিষ তৈরি করা এ কলমটি স্বপ্ল পরিশ্রম ও ব্যয়ে তৈরি করেন তিনি।
জানা যায়, যশোরের কোতয়ালী থানার লোন অফিস পাড়ায় জীবনযুদ্ধ করে দুই ছেলে-মেয়ে ও প্রতিবন্ধী স্বামীকে নিয়ে বসবাস করে।
পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার কথা ভেবে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ পিস কলম তৈরি করেন তিনি। মায়ের এ কাজে নিয়মিত সাহায্য করেন করতেন তার ছেলে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে সারাদেশে স্থবির অবস্থা বিরাজমান হলে বন্ধ হয়ে পড়ে নাসিমার কলম বিক্রি করে অর্থ উপার্জন।

দেশের করোনার এই দুযোর্গে অসহায়দের পাশে রয়েছেন যশোর পুলিশ সুপার জনাব মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন এমন সংবাদ পেয়ে ছুটে আসেন পুলিশ সুপারের সহায়তার আশায়।
পুলিশ সুপারের নিকট জানান করোনার দুযোর্গে পরিবেশ বান্ধব কলমটি যদি যথাযথ প্রচার এবং বিক্রয় এর ব্যবস্থা করে দিতেন তবে সে নিজে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হত এবং পরিবেশ দূষণ ও কিছুটা কমে যেত।
পুলিশ সুপার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করেন এবং পরিবেশ বান্ধব এই কলমটি যে কতটা যুগোপযোগী সেটা অনুধাবন করেন।
পুলিশ সুপার মহোদয় নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, নাসিমা আক্তার একটি কাগজের তৈরি কলম আবিষ্কার করেছেন যেটা সম্পুর্ণ পরিবেশবান্ধব, তারচেয়েও বড় কথা হলো আজ-কাল অভাবের তাড়নায় অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে নানা প্রকার অসামাজিক কার্যকলাপে কিন্তু নাসিমা আক্তার সেটি না করে জীবিকার তাগিদে পরিবেশের কথা চিন্তা করে তৈরি করেছেন সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব কাগজের তৈরি কলম। তার এই আবিষ্কাটি সত্যিই অত্যন্ত যুগোপযোগী এবং পরিবেশবান্ধব আবিষ্কার, যেটা অবিস্মরণীয় এবং অভাবনীয় তার এই আবিষ্কারকে আমরা সাধুবাদ জানাই এবং সর্বোপরি সহায়তার জন্য জেলা পুলিশ যশোর তার পাশে থাকবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের এই প্রচার এর কারণ হলো সমাজে যারা অভাবের তাড়নায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত হয়ে পড়ছেন তারা যেন এটি দেখে অনুপ্রেরণা পান। সেজন্য নাসিমা আক্তারের এই আবিষ্কার টি প্রচার হওয়া দরকার।
এ সময় পুলিশ সুপার মহোদয় নাসিমা আক্তার এর কাছ থেকে বেশকিছু কলম ক্রয় করেন এবং সেগুলো উপস্থিত সাংবাদিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঝে বিতরণ করেন।