রিপন হোসেন সাজু,মনিরামপুর (যশোর)।।
নিজ দপ্তরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে দালালমুক্ত করার চেষ্টাসহ মনিরামপুর উপজেলার নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ খোরশেদ আলম চৌধুরী যোগদানের মাত্র ৩ মাসের মাথায় অন্যত্রে বদলী হওয়ায় চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সচেতন মহলে বিরুপ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অনেকেই মন্তব্য করে বলেন, ভাল কর্মকর্তারা এক দপ্তরে বেশিদিন থাকতে পারেননা। জানাযায়, মোঃ খোরশেদ আলম চৌধুরী গত ১৩ আগষ্ট মনিরামপুর উপজেলার ভূমি দপ্তরে যোগদান করেন। আর অন্যত্রে বদলী হন চলতি মাসের ২৪ নভেম্বর। তার যোগদানের কয়েকদিন পর থেকে একের পর এক ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের কারণে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির দৃশ্যপট পাল্টাতে থাকে।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পৌর শহরের আলোচিত মালিকানাধীন কথিত একটি পার্কসহ দু’টি সিনেমা হলে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কর্মকান্ড হাতে-নাতে ধৃত করে জেল জরিমানা করায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক খোরশেদ আলম চৌধুরীকে সাধুবাদ জানান। এরপর তিনি তার নিজ দপ্তর উপজেলা ভূমি অফিসে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এক ব্যক্তিকে আটকসহ দালালমুক্ত করার চেষ্টা করেন।
তিনি ঘোষণা করেন জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে ভুক্তভোগী নাগরিকরা কোন দালাল অথবা
প্রতারকদের কাছে যাবেন না। ভূমি অফিসে এসে নিজের কাজ নিজেরা বুঝে নিয়ে যাবেন। চলমান মহামারী করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পৌর শহরের বিভিন্ন নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি একের পর এক ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এছাড়া, উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে অনিয়ম-দুর্নীতির পাশাপাশি ভেজাল বিরোধী অভিযান চালিয়ে তিনি
এলাকাবাসীর কাছে প্রসংশিত হন।
এক পর্যায় তার একের পর এক অভিযানের
কারণে আতংকের মধ্যে পড়েন আইন অমান্যকারী বিভিন্ন পর্যায়ের অনিয়ম-দুর্নীতিবাজরা। এদিকে তার বদলীর খবর জানাজানি হলে বিভিন্ন চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সচেতন মহলে আলোচনা চাউর হয়েছে, ইতিপূর্বে যে সমস্ত দুর্নীতি-অনিয়ম স্থানে অভিযান দেখা যায়নি তিনি সেখানে অভিযান চালিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই মন্তব্য করে বলেন, জনগণের স্বার্থে ভাল কর্মকর্তারা বেশী দিন এক দপ্তরে থাকতে পারেন না।
মনিরামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খোরশেদ আলম চৌধুরীর মাত্র ৩ মাসের মাথায় বদলীর ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, স্বাভাবিক বদলীর অংশ হিসেবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি অন্যত্রে বদলী হয়েছেন।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/শিরিন আলম