আমাদেরবাংলাদেশ ডেস্ক।। করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে আকাশ, সড়ক ও নৌপথে বাইরের দেশ থেকে মানুষের প্রবেশ বন্ধ রাখার ঘোষণা এসেছে। স্থানীয় সময় রোববার কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দেয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আর নিউজ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ সৌদিতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। সড়ক পথ ও নৌপথেও এই সময়ের মধ্যে কেউ দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে পরের সপ্তাহ পর্যন্ত।
যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলোতে করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার। সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকলেও এই সময়ের মধ্যে বিশেষ পরিস্থিতিতে অতি প্রয়োজনীয় ফ্লাইট চালু থাকবে বলে জানিয়েছে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।
নতুন ধরনের এই করোভাইরাস সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
ব্রিটিশ গবেষকরা লন্ডন এবং আশে-পাশের অঞ্চলে যে ভাইরাসের বিস্তার দেখছেন, সেটিকে তারা নিউ ভ্যারিয়েন্ট, অর্থাৎ নতুন বৈশিষ্ট্যের ভাইরাস বলে বর্ণনা করছেন। এটি যে আগেরটির চেয়ে অনেক বেশি প্রাণঘাতী বা মারাত্মক, সেরকম প্রমাণ তারা এখনো পাননি। আর এটিকে মোকাবেলার ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের নতুন টিকা যে ভিন্ন ফল দিচ্ছে, সেটাও তারা বলছেন না।
করোনাভাইরাসের মহামারি শুরুর পর থেকেই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, অন্য যে কোন ভাইরাসের মতো করোনাভাইরাসের এই নতুন ভাইরাসটিও মিউটেশনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে পারে। তার বৈশিষ্ট্য এবং আচরণে পরিবর্তন ঘটতে পারে। লন্ডন এবং আশে-পাশের অঞ্চলের ভাইরাসটি নতুন করোনাভাইরাসের এরকম এক পরিবর্তিত রূপ বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
যেটি গবেষকদের অবাক করেছে, তা হলো, এই ভাইরাসটি অনেক বেশি সহজে এবং দ্রুত ছড়াচ্ছে। আগেরটির তুলনায় এই নতুন করোনাভাইরাস ৭০ শতাংশ বেশি হারে ছড়াচ্ছে। ব্রিটিশ সরকারকে যে শুক্রবার আচমকা আবারও কঠোর লকডাউন জারি করতে হলো, তার পেছনে এটাই কারণ। এটি সরকারের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা বলছে, এই নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাস এখন নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক এবং অস্ট্রেলিয়াতেও নাকি পাওয়া গেছে। এটা নিয়ে তারা তাই ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।