আমাদেরবাংলাদেশ ডেস্ক।। পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার দাবিতে সিলেট বিভাগে টানা দ্বিতীয় দিনের পরিবহন ধর্মঘট চলছে। বন্ধ রয়েছে সিলেটের চার জেলার সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ। মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বানে মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় ৭২ ঘণ্টার এই কর্মসূচি।
ধর্মঘটের কারণে আজো সকাল থেকে সিলেট থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লারসহ কোনো বাস। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে যাত্রীদের। ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারেও বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার বাসসহ সব সব বাস এবং ট্রাক চলাচল। তবে স্বাভাবিক রয়েছে ট্রেন ও বিআরটিসির বাস চলাচল।
পরিবেশ বিপর্যয় রোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশে বন্ধ আছে সিলেটের সব পাথর কোয়ারি। এতে বেকার হয়ে পড়েছে এর সঙ্গে জড়িত শ্রমিকরা। বিভিন্ন সময় কোয়ারি চালুর দাবি জানালেও হয়নি সমাধান। সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন সোমবার রাতে বৈঠক করলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
সোমবার বিকেলে সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে ধর্মঘটের সর্বশেষ প্রস্তুতির সভা করে।
সভা শেষে সন্ধ্যায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোর ছয়টা থেকে ২৪ ডিসেম্বর শুক্রবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। ধর্মঘটে সিলেট বিভাগের বাস, ট্রাক, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, কোচ, লেগুনা, ট্যাংকলরি, সিএনজিসহ সব গণপরিবহনের চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে অ্যাম্বুলেন্স, বিদেশযাত্রী, ফায়ার সার্ভিস, সংবাদপত্র ও জরুরি ওষুধ সরবরাহের গাড়ি ধর্মঘটের আওতামুক্ত থাকবে।
ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিলেটের পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার দাবিতে পাথর আহরণ, বিক্রয়, বিপণনসহ এই খাতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারকে নিয়ে গঠিত হয় বৃহত্তর সিলেট পাথর–সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। পাথর কোয়ারিগুলো থেকে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর আহরণের অনুমতির দাবিতে প্রায় তিন মাস ধরে সংগঠনটি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। ৩ ডিসেম্বর সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটের পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। এতে কোনো সাড়া না পেয়ে বাধ্য হয়ে ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
প্রথম দফায় ৯ ডিসেম্বর সিলেট জেলায় পণ্যবাহী পরিবহনে ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘট পালন করা হয়। এ কর্মসূচি পালনের পর দাবি আদায় না হওয়ায় সিলেট বিভাগে গণপরিবহনে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে।