আমাদেরবাংলাদেশ.কম।। কল্যাণপুরের বাসিন্দা লিলি ইসলাম। মেয়ে সুভাকে নিয়ে রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটে এসেছেন। শিশুকন্যার জন্য পহেলা ফাল্গুনের জন্য বিশেষ পোশাক কিনবেন। পছন্দ হলেও মেয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিজেও কিনবেন। মার্কেটে ঘুরলেও মনে উচ্ছ্বাস নেই লিলি ইসলামের।
বলেন, ‘এবার মার্কেটে কোনো ভিড় নেই। গত বছরও অনেক ভিড় ছিল। মানুষের আনাগোনা বেশি থাকলে কেনাকাটায় উচ্ছ্বাস থাকে। সেই অনুভূতি এবার আর নেই।’
এত গেল ক্রেতাদের কথা। তাহলে বিক্রেতাদের অবস্থা কী! বিক্রেতারা কেউ কেউ বলছেন, ‘কখনও সারাদিনেও কিছুই বিক্রি হচ্ছে না। আবার একদিন পর দু-একটা করে বিক্রি করছেন।’ করোনার কারণে গত বছরের মতো এবার আর বেচাকেনা নেই মার্কেটে। দোকানে বসে অলস সময় পার করছেন বিক্রয়কর্মীরা। সবমিলিয়ে হতাশ ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আজিজ সুপার মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, বর্ণিল পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। বেচাকেনার ক্ষেত্রে প্রত্যাশার ছিটেফোঁটাও নেই। করোনার ধাক্কা কাটাতে ভ্যালেন্টাইন ও বসন্ত উৎসব ঘিরে প্রত্যাশা পূরণের কোনো সম্ভাবনায় দেখছেন না তারা।
আর্টেলা ব্র্যান্ডের স্বত্বধিকারী কানিজ হৃদি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভ্যালেন্টাইন ডের জন্য আয়োজন থাকলেও ক্রেতা নেই। বসন্তবরণ উপলক্ষে কিছু ক্রেতা আসছে। বেচাকেনা গত বছরের চেয়ে অর্ধেকেরও কম।’
শাল মহুয়ার ব্যবস্থাপক আবদুল হাই বলেন, ‘গত বছরের এই সময়ে করোনা শঙ্কা নিয়ে মাসে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার বেচাকেনা করেছি। এবার মাসে ২০-২৫ হাজার টাকাও হচ্ছে না। ব্যবসাই স্বাভাবিক হয়নি। এখনও মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক আছে। আবার অর্থনৈতিক সঙ্কটও আছে।’