সঞ্জয় কর্মকার যশোর জেলা প্রতিনিধি।।যশোরে সাড়ে ৫ হাজার খামারি হাটে তুলতে পারবেন না কুরবানির পশুযশোরের খামারিরা এবার কুরবানির পশু হাটে তুলতে পারবেন না। বাড়ি রেখে বিক্রি করতে হবে তাদের পালিত এই পশু। অনলাইন এবং বাড়িতে আসা ক্রেতারাই তাদের একমাত্র ভরসা। এ কারণে তারা কাক্সিক্ষত দাম পাবেন না বলে আশঙ্কা করছেন। ফলে, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে বলে খামারিরা বলছেন।
যশোরে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি খামারি কুরবানি উপলক্ষে গরু, ছাগল ও ভেড়া পালন করেছেন। সারাবছর ব্যয় করে কুরবানির আগ দিয়ে বিক্রি করার টার্গেট থাকে তাদের। খামারিরা বলছেন, কুরবানির পশু হাটে তুলতে পারলে একাধিক ব্যাপারি কেনার জন্যে আসেন। তখন তাদের সাথে দরকষাকষির সুযোগ থাকে। একইসাথে অনেক ক্রেতার কাছে একটি পশুর দাম নিয়ে যাচাই করার সুযোগ থাকে তাদের। ফলে, লাভবান হওয়ার সুযোগ বেশি হয়।
কিন্তু বাড়িতে রেখে কুরবানির পশু বিক্রি করার চেষ্টা করলে সেইভাবে মুনাফা হবে না। কারণ বাড়িতে পর্যাপ্ত সংখ্যক ব্যাপারি আসছে না। সেই সাথে ব্যক্তিগত ক্রেতার সংখ্যাও কম। ফলে, এবার কুরবানির পশুর তেমন একটা দাম পাওয়া যাবে না বলে খামারিরা মনে করছেন।
এ বছর যশোরে মোট কুরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৭১ হাজার সাতশ’ পশুর। এরমধ্যে গরু ৩২ হাজার ৬শ’ ৩০, ছাগল ৩৮ হাজার ৬শ’, ভেড়া ২শ’ ২০ এবং অন্যান্য ২শ’ ৫০। এই চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ২৪ হাজার ৩শ’ ১৭ টি বেশি। এ বছর যশোর জেলায় মোট উৎপাদন হয়েছে ৯৬ হাজার ৩৭ টি পশু। এরমধ্যে গরু রয়েছে ৪৪ হাজার ৫শ’ ৫০, ছাগল ৫০ হাজার ৯শ’ ৩৯, ভেড়া ২শ’ ৭২ এবং অন্যান্য পশু ২শ’ ৭৬টি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে এই পরিসংখ্যান জানাগেছে। খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা স্বীকার করেছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারাও। তারা বলছেন, পশুর হাটে যেভাবে বিক্রি করা যায় বাড়িতে সেই সুযোগ কম। অনলাইনেও একই কথা। কারণ হাটে অনেকগুলো পশু দেখার পর একজন ক্রেতা যেভাবে স্বচ্ছন্দে কিনতে পারেন অনলাইনে সেই সুযোগ নেই। আবার একাধিক ক্রেতার সাথে কথা বলার পর একজন খামারি তার পালিত পশু স্বচ্ছন্দে বিক্রি করতে পারেন। যা অনলাইন কিংবা বাড়িতে সম্ভব না।
কুরবানির পশু বিক্রির বিষয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন করোনা মহামারির কারণে জেলা প্রশাসন সকল হাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসকের অ্যাপে পশু বিক্রির তথ্য আপলোড করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অফিসের লোকজন উপজেলা থেকে তথ্য নিচ্ছে। উল্লেখ্য, যশোর জেলায় ১০ টি পশুর হাট রয়েছে বলে প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
উক্ত বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বখতিয়ার হোসেন বলেন,করোনা মহামারি আকার ধারণ করায় জেলা প্রশাসন এ বছর পশুর হাট না বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কারণে অ্যাপের মাধ্যমে পশু বিক্রি করার চেষ্টা চলছে।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/শিরিন আলম