নিজস্ব প্রতিবেদক।। ঢাকার ধামরাইয়ে চুরির ঘটনার বিচার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনজনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে ধামরাই ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মুক্তিবুর রহমান মুক্তি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। উপজেলার হাজিপুর পশ্চিম পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আহতরা সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ইউপি সদস্য মুক্তিবুর রহমানের ছেলে পাচু মিয়া প্রতিবেশী আকলিমা আক্তারের বাড়ি থেকে দুটি হাঁস চুরি করে বিক্রি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে পাচু মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাচু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও বাবার প্রভাবে কেউ কথা বলার সাহস পেতেন না।
বিচারের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত রাতে ইউপি সদস্য মুক্তিবুর রহমান ও তার ছেলে পাচু মিয়ার নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আকলিমা আক্তারের বাড়িতে হামলা চালায়। খবর পেয়ে আকলিমার ভাই আল আমিন (৩০), দেবর সোহরাব (৩৫) ও ছেলে কায়কোবাদ (২৮) বাড়ির দিকে আসার পথে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মাথায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক কোপে খুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার অবস্থা সবচাইতে আশঙ্কাজনক।
ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তার জানান,পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মেম্বার আমাদের ওপর সবসময় নির্যাতন চালায়। বিচারের পর সে দলবল নিয়ে আমার ঘরবাড়ি কুপিয়েছে এবং রাস্তায় আমার ছেলে ও ভাইদের মারার উদ্দেশ্যে কুপিয়েছে। এখন উল্টো আমাদের নামেই মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মুক্তিবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান,উভয় পক্ষ থেকেই অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিডি.কম/রাজু