নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘নির্বাচনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। যেখানে যে রকম ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সেখানে সে রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময়সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রস্তুতি বেশ ভালো। নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না। যে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর বেশির ভাগই নিজেদের দলের ভেতরে।
কোনো অনুষ্ঠানে একজনকে দাওয়াত দিলে দুজন চলে আসে। তখন সিদ্ধান্তের অমিল হলে নিজেরাই লেগে যাচ্ছে। এ জন্য জনসচেতনতা জরুরি।’
সম্প্রতি সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হাতে বিজিবি কর্মকর্তা নিহত হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। চট্টগ্রামের প্রার্থীরা বিভিন্নভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন বলে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘দু-একটি আসনে ছোটখাটো লঙ্ঘন যে হচ্ছে না, তা নয়। প্রতিদিনই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ ফেসবুকে গুজব রটানো ঠেকাতে নির্বাচনের দিন ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করার পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘গুজব বা মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট খোলা থাকবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আগে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে লিখতে বা প্রশ্ন করতে পারতেন না। এখন যেভাবে প্রশ্ন করতে পারছেন, তখন তা সম্ভব ছিল না। বর্তমান সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। তবে মিথ্যা নয়, সত্য সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।’নির্বাচনে নারী ভোটারদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা এখানে (সংবাদ সম্মেলনে) যেভাবে নিরাপদ, ভোটকেন্দ্রে ঠিক সেভাবেই নারীরা নিরাপদ থাকবেন। এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়া উদ্দিন, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার নাজির আহমদ খানসহ, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার, জেলা নির্বাচন অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এবং আনসার-ভিডিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।