নিজস্ব প্রতিবেদক।। নড়াইলের কালিয়ায় বারুইপাড়া ব্রীজ নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি নিয়ে চরম হয়রানির অভিযোগ উঠেছে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কংক্রিট এন্ড স্টীল টেকনোলজি কোম্পানি লিঃ’ এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। ৫ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বকেয়া থাকায় গত ২০ দিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শ্রমিকরা। পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে শ্রমিক সরদার লাল মিয়া মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শ্রমিক সরদার লাল মিয়া জানান, প্রায় এক বছর আগে সাব-ঠিকাদার জসিমের সাথে মৌখিক চুক্তিতে তারা কাজ শুরু করেন। কাজ শুরুর ১৫ দিনের মাথায় ঠিকাদারের লেনদেনে অনিয়ম দেখে তারা কাজ বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। সে সময় কোম্পানির জিএম ইমরান ও সংশ্লিষ্টরা শ্রমিকদের পাওনার দায়িত্ব নিলে তারা পুনরায় কাজ শুরু করেন।
বর্তমানে কাজ শেষ হওয়ার এক মাস পার হয়ে গেলেও কোম্পানি ও ঠিকাদার একে অপরকে দোষারোপ করে সময়ক্ষেপণ করছে। লাল মিয়া বলেন,”দোকানীরা বাকির টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। আমরা এখন না খেয়ে মরার অবস্থা। টাকা চাইতে গেলে উল্টো মারধর করা হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানির প্রজেক্ট ম্যানেজার (পিএম) লিটনকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাড়িতে আছেন বলে জানান এবং পরে কথা বলবেন বলে কলটি এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে তাকে আর পাওয়া যায়নি। কোম্পানির জিএম ইমরানের মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার মাধব শ্রমিকদের পাওনার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন:লাল মিয়ার পাওনা টাকা অফিস থেকে পরিশোধ করা হবে। সাব-ঠিকাদার জসিম অফিস থেকে ইতিমধ্যে ১০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। অফিসে বসে ঠিকাদারের সাথে হিসাব সমন্বয় করে দ্রুত শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী শ্রমিকদের দাবি,তাদের কাছে কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসের অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন,দরিদ্র এই শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে পারের অফিসে টাকার জন্য ধরণা দিচ্ছেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সাধারণ শ্রমিকদের পাওনা আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এবিডি.কম/সিয়াম