নিজস্ব প্রতিবেদক (গাজীপুর)।। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় এক সাধারণ পোশাক শ্রমিকের অবিশ্বাস্য উত্থান নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র কয়েক বছর আগে ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি শুরু করা মোহাম্মদ লাভলু হোসেন এখন প্রায় ১২ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। এই বিপুল বিত্ত-বৈভবের নেপথ্যে ‘উচ্চ হারে সুদের কারবার’ ও ‘জমি দখলের’ অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,মো: সায়েদ আলীর ছেলে লাভলু হোসেন শুরুতে একটি পোশাক কারখানায় মাসিক ১২ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতেন। পরে তা ১৮ হাজার টাকায় উন্নীত হয়। তবে এই সামান্য আয়ে চললেও পর্দার আড়ালে তিনি গড়ে তোলেন সুদের বিশাল সাম্রাজ্য। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভাবী মানুষকে উচ্চ সুদে টাকা দিয়ে পরবর্তীতে তা আদায়ে শারীরিক ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করতেন তিনি। টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি লিখে নিতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে ও ভূমি রেকর্ড সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রা মৌজায় লাভলুর নামে বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে: নিজ নামে জমি: আরএস ১২২১ নম্বর দাগে দুটি দলিলে (২০২৩ ও ২০২৫ সালের রেজিস্ট্রেশন) মোট ৪৪.৭৫ শতাংশ জমি রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। স্ত্রীর নামে সম্পদ: একই দাগে তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৯.৫০ শতাংশ জমি, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। অন্যান্য: উলুসারা ও চন্দ্রা মৌজায় আরও প্রায় ১০ শতাংশ জমি তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তিনি মাত্র ৩৭ লক্ষ টাকার নেট সম্পদ এবং ৫ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা নগদ অর্থ প্রদর্শন করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ আড়াল করতেই তিনি নথিপত্রে কম তথ্য দেখিয়েছেন।
ভুক্তভোগী মো: আজিজুল ইসলাম বলেন,”আমি ১৬ লক্ষ টাকা নিয়ে ৫০ লক্ষ টাকা সুদ দিয়েছি। ব্যবসায় ক্ষতির কারণে আর টাকা দিতে না পারায় আমাকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫ শতাংশ জমি লিখে নিয়েছে। এমনকি জমির বাড়তি ৫ লক্ষ টাকাও আমাকে ফেরত দেয়নি।”আরেক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ৪০ লক্ষ টাকা নিয়ে ১ কোটি টাকার বেশি সুদ দেওয়ার পরও এখনো তাকে পাওনাদার সাজিয়ে রাখা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী শরিফা বেগম জানান, লাভলু তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও মামলার ভয় দেখিয়ে এই সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন। এমনকি ট্রান্সপোর্ট অফিসগুলোতে দৈনিক হাজারে ১-২ হাজার টাকা সুদে তিনি লগ্নী করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদনহীন ব্যক্তিপর্যায়ে সুদের কারবার দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অবৈধ কর্মকাণ্ড ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি এখন টক অব দ্য টাউন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মোহাম্মদ লাভলু হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান,আমরা এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”এলাকাবাসী এই ‘সুদ সিন্ডিকেট’ নির্মূল এবং অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিডি.কম/ জাহাঙ্গীর আলম