শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে রূপসা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এই কৃষক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা, কৃষি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাতের ফসল, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি এবং কৃষি উদ্ভাবন বিষয়ক বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল কৃষকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। প্রদর্শনীগুলো ঘুরে দেখে কৃষকরা নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন। সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত কৃষকরা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা,প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির নানা বিষয় নিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক এস কে আজিজুল বারী হেলাল। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন:”দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের ঐতিহ্যবাহী কৃষি খাতকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে। কৃষকদের যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধি করা গেলে উৎপাদনশীলতা অনেক গুণ বাড়বে,যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রিক্তা-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষকদের উদ্দেশ্যে সরকারের বিভিন্ন কৃষি সহায়তা কর্মসূচি ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: সুবির কুমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। মো. মোসাদ্দেক হোসেন, সিনিয়র মনিটরিং অফিসার,পার্টনার প্রোগ্রাম (খুলনা অঞ্চল)।তরুণ কুমার বালা,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, রূপসা।
বিশেষ অতিথিরা কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করার পাশাপাশি কীভাবে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে অধিক ফলন অর্জন করা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন কৌশলগত আলোচনা করেন।
কৃষক সমাবেশের পাশাপাশি রূপসা উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি এস কে আজিজুল বারী হেলাল শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রকল্প ও উদ্ভাবনী প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং তাদের সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন।তিনি উল্লেখ করেন, বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন তৃণমূল পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষক ও শিক্ষার্থীরা এই ধরনের আয়োজন প্রতি বছর নিয়মিত করার জোর আহ্বান জানান। আয়োজক পক্ষ আশা প্রকাশ করেন, কৃষি ও বিজ্ঞানভিত্তিক এই ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উদ্ভাবনমুখী করার পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতের আধুনিকায়নে এক যুগান্তকারী অবদান রাখবে।
এবিডি.কম/রাজু