আহসান টিটু, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি : আসন্ন শুটঁকি আহরণ মৌসুমে সমুদ্রগামী জেলেদের শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে ইতোমধ্যে। আগামী ৩০ অক্টোবর ২০১৯ তারিখ জেলেরা নানা শঙ্কা মাথায় নিয়ে প্রতি বছরের মত এবারও সুন্দবনের জেলে পল্লীতে অবস্থান করে শুটঁকির জন্য মৎস্য আহরণ করবেন। সুদ কারবারিদের কাছ থেকে উচ্চহারে ঋণ গ্রহন, বনদস্যুদের হামলা, মুক্তিপন ও অপহরণের শঙ্কা, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও সমিতি থেকে ঋণ গ্রহনে জটিলতাসহ নানামূখি সমস্যায় জর্জরিত জেলেদের এক সংগ্রামী জীবন শুরু হতে চলেছে। বলেছিলাম রামপালের শুটঁকি পল্লীর জেলেদের কথা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি শুটঁকি আহরণ মৌসুমে রামপালে ১০টি ইউনিয়ন থেকে প্রায় পাঁচশতাধিক জেলে বহদ্দার তাদের ট্রলার ও জাল প্রস্তুত করেছেন। উপজেলার রামপাল সদর ইউনিয়নের কামরাঙ্গা, শ্রীফলতলা, ঝনঝনিয়া, ওড়াবুনিয়া, বেলাই থেকে দুই শতাধিক জেলে সমুদ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। একইভাবে পেড়িখালী ইউনিয়নের সিকিরডাংগা, পেড়িখালী, পুঁটিমারী, রোমজাইপুর ও বড়কাটালীর শতাধিক জেলে, বাঁশতলী ও বাইনতলা ইউনিয়ন থেকে মুজিবনগর, বাঁশতলী,
গিলাতলা, কালিগঞ্জ, চাকশ্রী, শরাফপুর, কাশিপুর ও দূর্গাপুরের এক শতাধিক জেলে, রাজনগর, হুড়কা ও উজলকুড় ইউনিয়নের হুড়কা, কালেখারবেড় ও সোনাতুনিয়া থেকে প্রায় একশতাধিক জেলে তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন সমুদ্রগামী জেলে সমিতির সভাপতি মলিক শহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, পেশা হারানোর ভয়ে জেলেরা তাদের বাপ-দাদার পেশাকে আকড়ে ধরে রেখেছেন। বিভিন্ন সমস্যায় জেলেরা জর্জরিত। উচ্চহারে সুদে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে ওই ঋণের হার শতভাগ পর্যন্ত গড়ায়। ব্যাংক-এনজিও’র ঋণ পেতে নানা জটিলতায় অশিতি-অর্ধ শিতি জেলেরা সুদে মহাজনদের পেছনেই ছোটেন।
এরপর সুন্দরবনে বনদস্যুদের উৎপাত, মুক্তিপন ও চাঁদাবাজি, প্রতিকুল ও বৈরী আবহাওয়া, অসাধু বনদস্যুদের দৌরাত্ব এবং মহাজনদের কাছে মাছ বিক্রিতে সঠিক মূল্য না পাওয়াসহ নানামুখি জটিলতায় পড়তে হয়। এসব চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে ও একটুখানি ভালো থাকার আশায় জেলেদের প্রায় ৬ মাসের জন্য এক সংগ্রামী জীবন শুরু হয়। সমুদ্রগামী জেলে পেড়িখালীর ওমর ফারুক, সোহেল মলিক ও আজাদ শেখ বলেন, ‘আমাদের করুন কাহিনী কেউ শুনতে চায় না।’ তারা জানান, সুদে মহাজনদের কাছ থেকে ৩০-৪০% হারে সূদে টাকা নিয়ে কেউ কেউ নতুন ট্রলার ও জালসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল সংগ্রহ করে থাকেন, এছাড়া বিভিন্ন সমস্যা তো রয়েছেই।
বিশেষ করে অসাধু বনরক্ষীদের দৌরাত্ব, জলদস্যু, বনদস্যুদের চাঁদা দিয়ে কাঙ্খিত মাছ আহরণ করতে না পারলে এই পেশা ধরে রাখা সম্ভব হবে না।সমুদ্রগামী জেলে সমিতির নেতৃবৃন্দ দৈনিক আমাদের বাংলাদেশকে জানান, আসন্ন মৎস্য আহরণ মৌসুমে যাতে নির্বিঘ্নে জেলেরা মৎস্য আহরণ করে শুকাতে এবং পরিবহন করতে পারে সে জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।