ইমন আল আহসান.কলাপাড়া,পটুয়াখালী প্রতিনিধি।। কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নীলগঞ্জ গ্রামের চতুর্থ শ্রেনীর কোমলমতি শিক্ষার্থী আছিয়া আক্তার দোলা ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আগের দিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বখাটে রোমিওয়া তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে তাই সে রাগে, দু:খে, অপমানে, লজ্জায় অজানার উদ্যেশে পাড়ি দেয় বলে জানা গেছে। ওই শিক্ষার্থী পৌর শহরের মর্নিং স্টার প্রি-ক্যাডেট স্কুলের ছাত্রী।আছিয়াকে ঢাকাগামী একটি লঞ্চে দেখতে পায় একই এলাকার এক ব্যাক্তি। তখন তার বাবা সেলিম মিয়াকে ফোন করে তার মেয়ের কথা বলেন।এ সময় শিক্ষার্থীর মুখ থেকে সব কিছু শুনে ফেসবুক আইডিতে দু’টি ভিডিও আপলোড করেন। বিষয়টি তৎক্ষনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থী আছিয়াকে না পেয়ে পরিবারের লোকজন অনেক খোজাখুজি করে। শিক্ষার্থীর বাবার পরিচিত এক ব্যাক্তি কলাপাড়া থেকে ঢাকাগামী ‘রয়েল ক্রুজ’ লঞ্চে তাকে দেখতে পায়। তখন সে আছিয়ার বাবাকে ফোন করলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এসময় লঞ্চের আরেকযাত্রী কলাপাড়া পৌরসভার সংরক্ষিত কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম ও আওয়ামীগ নেতা কালাম সরদার শিক্ষার্থী মুখ থেকে সব কিছু শুনেন। এরপর একটি ফেসবুক আইডির ভিডিওতে শিক্ষার্থী আছিয়া বলে তাকে প্রায়ই শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় স্থানীয় বখাটে জাফর, শাকিল, শাশীম, স্মরনসহ আরো ৫/৭ জন। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী ঢাকায় তার বোনের বাসায় রয়েছে।
আছিয়ার মা ঝর্না বেগম বলেন, যখন বড় মেয়ে লাবনী দশম শ্রেনীতে পড়ত, তখনও এলাকার বখাটেরা তাকেও উত্যক্ত করত। বড় মেয়ে বাসায় এসে কান্নাকাটি করত। মাধ্যমিক পাসের পর ঢাকার রয়েল নার্সিং হোমে ভর্তি করাই। দ্বিতীয় মেয়ে লামিয়া সপ্তম শ্রেনীতে ওঠার পর একই ভাবে বখাটেদের হাতে ইভটিজিংয়ের স্বীকার হয়। এলাকার বখাটে জাফর, মিলনরা প্রায়ই তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিত। এর পর শুরু হয় তৃতীয় মেয়ে আছিয়া আক্তার দোলার উপর ইভটিজিং। বর্তমানে ছোট মেয়েকে নিয়ে শংকায় পরিবার। মেয়ে হয়ে জন্মানোটাই কি অপরাধ ! এ কথা বলেই সাংবাদিকদের সামনে অঝোড় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন চার সন্তানের মা ঝর্না বেগম।
আছিয়ার বাবা সেলিম জানান, বখাটেদের ব্যাপারে তাদরে পরিবারের কাছে নালিশ করলেও কোন ফল হয়নি। উল্টো লাঞ্চনা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। অভিযুক্ত শাকিলসহ আরো চার পাচ জন তার বাড়িতে গিয়ে তারই ছোট ভাই মজিবরকে হুমকি প্রদান করেন বলে তিনি জানান।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান জানান, বিষয়টি শুনে তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা বলেন। এছাড়া লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জাসিয়েছেন তিনি।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম