
আশিক মাহমুদ: চাকরি করেন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদে। আর দায়িত্ব পালন করেন দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার। অফিসের টেন্ডার, বিজ্ঞাপন, বিল, কেনাকাটা, সরকারি বাজেট, বিদেশি দাতা সংস্থার টেন্ডার সবই নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আক্তারুজ্জামান খান নামের এই কর্মচারী এসব করে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বলে অভিযোগ আছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুদক।
১৯৯৪ সালে শ্বশুর পক্ষের নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আইইএম শাখায় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ পান আক্তারুজ্জামান খান। দায়িত্ব ছিলো ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের জনবহুল এলাকায় ভ্যানে করে সরকারি বিভিন্ন ধরণের কর্মসূচি প্রদর্শন করা।
অদৃশ্য ক্ষমতার বলে ২০০১ সালে প্রদর্শনী দেখানোর পাশাপাশি অফিসের নথিপত্রের কাজ শুরু করেন আক্তার। এরপর থেকেই তর তর করে ওপরে উঠেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত ১৮ বছর ধরে পুরো অধিদপ্তর নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন তিনি। নামসর্বস্ব বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া, লাইসেন্স ছাড়া প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়া, কমিশনের বিনিময়ে টেন্ডারে সহায়তা করাসহ আইইএম শাখার সকল কাজই তিনি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সহকর্মীদের ভাষায়- তিনি শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।
তার এসব অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। অভিযোগ আমলে নিয়ে আক্তারুজ্জমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানও শুরু করে সংস্থাটি। দুদক থেকে তার সময়ের সকল নথি তলব করে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছে দুদক।
আক্তারুজ্জমানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ওঠার পর কিছুদিন আগে তাকে নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুরে বদলি করা হয়। যদিও এই বদলির আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে তা স্থগিত করিয়েছেন তিনি।
তবে এসব বিষয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। অন্য কোন কর্মকর্তাও কথা বলতে রাজি হননি।
অভিযোগ সম্পর্কে আক্তারুজ্জামান খানের বক্তব্য জানতে বার বার মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে বৈশাখী টেলিভিশনের এই প্রতিবেদক। ক্ষুদে বার্তাও পাঠানো হয়েছে। তবে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম