প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ৬:০০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ৯, ২০১৯, ৯:০১ পূর্বাহ্ণ
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ও বীরবিক্রম মহিবুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

শাহাদাৎ বার্ষিকীতে রূপসা প্রেসক্লাবে নানা আয়োজন
খুলনা ব্যুরো।। মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত স্মৃতির পাতায় চিরস্মরণীয় একটি দিন ১০ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এইদিনে গৌরবময় বাংলার উজ্বল দু’টি নক্ষত্র খুলনার রূপসা উপজেলার চর রূপসা এলাকায় সমাহতি শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ও শহিদ বীরবিক্রম মহিবুল্লাহ মিত্র বাহিনীর হাতে শহীদ হন। শহীদদ্বয়ের স্মরণে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর পাশাপাশি রূপসা উপজেলা প্রশাসন, রূপসা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন যথাযথ মর্যাদায় শাহাদাৎ বার্ষিকী পালনের নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহিদদের মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ, ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগীতা, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান।
জানা যায়, সকালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী তিতুমীরের কমোডোর কমান্ডিং এর শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণসহ নৌ-বাহিনী কুচকাওয়াজ ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। পরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সংগঠন পুস্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া কামনা করবেন। বিশেষ করে রূপসা প্রেসক্লাব স্বাধীনতার রক্তাক্ত ইতিহাসের এ দিনটি স্মরণে ও দুই বীরের রুহের মাগফিরাত কামনায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দোয়া অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে সকালে শহীদদ্বয়ের মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ, বিকাল ৪ টায় ক্লাবের নিজস্ব মিলনায়তনেআলোচনা সভা ও রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠান, সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে দেশের স্বনামধন্য জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের নিয়ে ৮ দলীয় ব্যাডমিন্টন টুর্ণামেন্ট এর ফাইনাল ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খুলনা ৪ আসনের সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ মোঃ আব্দুস সালাম মূর্শেদী। গতকাল মিঃ বাংলাদেশ উপাধিতে ভূষিত জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ মোঃ আবুল কালাম এই টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন করেন।
উল্লেখ্য স্বাধীনতার সূর্যোদয়ের ক্রান্তিকালে খুলনা চুড়ান্ত বিজয়ের প্রথম অভিযান শুরু করে মুক্তি ও মিত্র বাহিনীর নৌ-কমান্ড। খুলনার খালিশপুরের নৌ ঘাটি তিতুমীর দখলের জন্য ১০ ডিসেম্বর ভোরে খুলনা অভিমুখে রওনা হয় তিনটি রণতরী। রণতরী বহরের প্রথমে ভারতীয় জাহাজ আই,এন,এস ‘পানভেল’, মাঝে বি,এন,এস ‘পলাশ’ ও শেষে আই,এন,এস ‘পদ্মা’ একই গতিতে এগোতে থাকে। বেলা ১২টার দিকে জাহাজ তিনটি খুলনার শিপইয়ার্ডের অদুরে পৌঁছালে ভুল সিগনালের কারণে মিত্র বাহিনীর যুদ্ধ বিমানের নিক্ষিপ্ত বোমায় ‘পলাশ’ ও ‘পদ্মা’ জাহাজ মারাত্নক ভাবে বিধ্বস্ত হয়। এর মধ্যে আংশিক বিধ্বস্ত হয়ে পদ্মা’র ইঞ্জিন বিকল হয়ে নদীর চরে আটকা পড়ে এবং পলাশ জাহাজে আগুন ধরে যায়। এসময় জীবন বাঁচাতে অনেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু পলাশের ইঞ্জিনরূম আর্টিফিশিয়ার (চিফ ই.আর.এ) রূহুল আমিন অগ্নিদগ্ধ রণতরী পলাশ ও বিপন্ন মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজেই শহীদ হন। সেই সাথে আরো শহীদ হন বীর বিক্রম মহিবুল্লাহ, নৌ-সেনা ফরিদ উদ্দীন, আখতার উদ্দীন, দৌলত হোসেন ও নৌ-কমান্ডো মোঃ রফিকসহ ১০জন। তবে এসময় অপর রণতরী পানভেল দ্রুত পিছু হটে রক্ষা পায়। এসময় স্থানীয় জনতা যুদ্ধ বিদ্ধস্ত পলাশে থাকা বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন ও বীর বিক্রম মহিবুল্লাহ'র লাশ রূপসা নদীর পূর্ব তীরে সমাহিত করেন।
আরো জানা যায়, দেশ স্বাধীনের ২৫ বছর পর ১৯৯৭ সালে এ দুই বীরের কবর স্থানীয় এক শিল্পপতি বিলুপ্ত করে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগ নিলে তৎকালীন রূপসা রিপোর্টার্স ক্লাব (বর্তমান রূপসা প্রেসক্লাব) এটি রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। অব্যহতভাবে পত্রিকায় রিপোর্টের পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসূচি পালন করেন। একপর্যায়ে শহিদদ্বয়ের স্মৃতিতে ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে আসেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি ড. নজরূল ইসলাম, কেডিএর চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম (বীর প্রতীক) ও প্রয়াত সাংবাদিক বিবিসি খুলনা প্রতিনিধি মানিক চন্দ্র সাহা সহ সূধীজনেরা। এ সময় এ দুই বীরের কবরের ভগ্নদশা দেখে কেডিএ’র চেয়ারম্যান বিস্মিত হন এবং কবর দু’টি মাজার কমপ্লেক্সে রূপান্তরিত করার জন্য তাৎক্ষনিক ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন এবং খুলনা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ডিজাইনের দায়িত্ব দেওয়া হয় । তখন এ দু’বীরের মাজার কমপ্লেক্স নির্মিত হয়। পরে পূর্বের ডিজাইন ভেঙ্গে নতুন আঙ্গিকে মাজার কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে নৌ-বাহিনী খুলনা তিতুমীর মাজারের সার্বিক দায়িত্বে থাকায় পরিস্থিতির অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। রূপসা রিপোর্টার্স ক্লাব (বর্তমান রূপসা প্রেসক্লাব) এর তৎকালীন সভাপতি ও রূপসা প্রেসক্লাব আয়োজিত নানা কর্মসূচির আহবায়ক এস,এম মাহবুবুর রহমান জানান, বাঙ্গালী জাতীর গর্ব এ দুই বীরের সমাধীস্থল রূপসায় হওয়ায় আমরা গর্বিত। বাংলার দুই বীরের স্মরণে ও স্মৃতি আগামী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস অব্যহত থাকবে। কিন্তু সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে জাতীয় এই দু’বীরের বীরত্ব গাথা স্মৃতি বৃহত্তর পরিসরে পরিস্ফুটিত করা যেত বলে আমাদের বিশ্বাস।
পরিচয়ঃ শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন ১৯৩৪ সালে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জের বাগচাঁপড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আজাহার আলী মিয়া। তিনি ১৯৫৩ সালে নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৭১ সালে ৯নং সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। শহিদ বীর বিক্রম মহিবুল্লাহ চাঁদপুরের শাহেদপুর গ্রামের মোঃ সুজা আলীর পুত্র। তিনি ১৯৬২ সালে নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং একই সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। তার জন্ম ১৯৪৪ সালের ৩১ আগষ্ট।
আবা/রিফাত/তরিকুল
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম