আসাদুর রহমান যশোর থেকে।। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ কুন্দিপুর গ্রামে অবৈধভাবে গড়ে হীরা ব্রিকস্ ইট পোড়ানো হচ্ছে বনাঞ্চল ধ্বংস করে। আশেপাশের বন উজাড় করে কাঠ পুড়িয়ে চলছে এসব ইট ভাটা। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ইটভাটা স্থাপন অব্যাহত রয়েছে। টাকার বিনিময়ে প্রশাসনকে 'ম্যানেজ' করে ইটভাটা স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন মাঝেমধ্যে দায়সারা অভিযান চালালেও এসব ইটভাটা মালিককে ঠেকাতে পারেনি। ইটভাটাটি অবৈধ হওয়ায় বন্ধের জন্য আইনি নোটিশ এবং একবার পুরোপুরি ভাবে বন্ধ করে দিলেও কিছুদিন পর ফের চালু হয়ে যায় ওই ইটভাটাটি।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন ও ২০০১ সালের (সংশোধিত) ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী আবাদি জমি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা।
ইটভাটা মালিকরা কয়েক দফা আবেদন করলেও পরিবেশ আইনবহির্ভূত হওয়ায় অনুমোদন নিতে পারেননি তারা। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ ইটভাটা। ইট ভাটাটি জনবসতি এলাকায় হওয়ায় ওইসব এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। অনেকে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভাটায় ইট পোড়ানোর মৌসুম। এক লাখ ইট পোড়াতে কাঠ লাগে দুই হাজার মণ। এই হিসাব অনুযায়ী ইটভাটাগুলোতে কোটি কোটি মণ কাঠ পোড়ানো হয়। তবে প্রকৃত হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি বলে জানা যায়।
উপজেলা বন বিভাগের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী জানান, বনায়ন গিলে খাওয়া এসমস্ত ইট ভাটা গুলোর প্রতি তারা যেন দৃষ্টান্ত ব্যবস্থা গ্রহন করে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইট পোড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। উর্দ্ধতন কতৃপক্ষ শিঘ্রয় হীরা ব্রিক্সসহ উপজেলার অবৈধ ইট ভাটা গুলো আইনের আওতায় এনে পরিবেশ বান্ধব বনায়ন সহ জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে দিবেন এমনটাই কামনা করেছেন সচেতন মহল।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম