প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ৩:১৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯, ৫:১৮ অপরাহ্ণ

জবি প্রতিনিধি।।সহযোগী সংগঠনে শীর্ষ নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তনের পর টানটান উত্তেজনার মধ্যে কাল থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। নতুন নেতৃত্বে আসছেন কারা-এ আলোচনা সর্বত্র। সম্মেলন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। দেশের স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দলটির সভানেত্রী পদে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাই থাকছেন। সম্মেলন নিয়ে তরুণ চিন্তাবিদদের ভাবনা তুলে ধরা হলো-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাহের সহকারী অধ্যাপক সামশাদ নওরীন বলেন, বঙ্গবন্ধুর সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১ তম জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন আসন্ন। সাথে সাথে তোড় জোড় শুরু হয়েছে পদ প্রত্যাশী নেতা কর্মীদের। ইতোমধ্যে দলের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা দেশ দলের স্বার্থ বিভিন্ন ধরনের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মাদক ও দুর্নীতি ঠেকাতে বিশেষ আইন প্রনয়ন ও আইনের প্রয়োগ করছেন।
শুদ্ধি অভিযানের ফলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ, দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। আওয়ামী লীগের অতীতের সম্মেলনে দেখা গেছে ত্যাগ ও কর্মের বিবেচনায় নেতারা গুরুত্ব পেয়েছেন। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের বরতমান কমিটির বেশকিছু সম্পাদক ও দপ্তর উল্লেখ যোগ্য কাজ করেছেন বিশেষ করে বন ও পরিবেশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা ও মানব সম্পদ ইত্যাদি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বন ও পরিবেশ উপ-কমিটি পরিবেশ বান্ধব কিছু কাজ করেছেন পরিবেশ রক্ষায় দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ১ কোটি গাছের চারা রোপন, প্রাকৃতিক ও মানুষ দ্বারা প্রভাবিত পরিবেশ বিপর্যয় রোধে সচেতনতা মূলক সেমিনার, ট্রেনিং এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের করা একমাত্র পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি ও করেছে বন ও পরিবেশ উপ-কমিটি যেখানে দেশি ও বিদেশী পরিবেশ বিষেশজ্ঞরা তাদের মুল্যবান বক্তব্য দেন যা বাংলাদেশ তথা সমগ্রপৃথিবীর পরিবেশ উপকৃত হবে। এটা সম্ভব হয়েছে বন ও পরিবেশ উপ-কমটির তারুণ্য নির্ভর কমিটির জন্য। এজন্য আমি মনে করি এবারের সম্মেলনে তারুণ্যের মূল্যায়ন করা হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মোফাজ্জল হোসেন বলেন, বর্তমানের উন্নয়ন কে সমন্বিত রুপে বাস্তবায়ন করে তৈরি করতে হবে আগামীর স্বপ্ন সিঁড়ি। আগামীর নেত্রীত্বের চোখে দেখতে চাই সেই সিড়িঁর প্রতিটি ধাপ অতিক্রমের দৃঢ় প্রত্যয় আর কঠিন মনোবল । সেই সাথে উন্নয়নের সুফল যেন জনগন ভোগ করতে পারে আর কষ্টার্জিত স্বাধীনতার ফসল আমাদের সংবিধানের মূল ভিত্তি যেন সকল রাজনৈতিক মতাদর্শের পাথেয় হয়। সংবিধানের মৌলিক অধিকার রক্ষা, আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠা আর টেকসই উন্নয়ন আগামীর নেত্রীত্ব থাকবে অগ্রণী ভূমিকায়। যাতে সাংবিধানিক নাম ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ নামটি সত্যিকার অর্থেই অর্থবহ হয়ে ওঠে। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা যেন সোনার মানুষে ভরে ওঠে। সেই প্রত্যাশা পূর্ণ হওয়ার প্রত্যাশায় আজও তরুণদের শক্তি কেই সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে দেখি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মহিউদ্দিন মাহি বলেন, আগামীর বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা বেস্টনির এক নতুন বাংলাদেশ।
যে পৃথিবী হবে ক্ষুধা, দারিদ্র, নিরক্ষর মুক্ত যেখানে থাকবে অবারিত সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত। কোন সীমাবদ্ধতা দ্বারা আবদ্ধ থাকবে না। একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবী প্রযুক্তি নির্ভর পৃথিবী মুক্ত বানিজ্যের পৃথিবী। সমগ্র পৃথিবী হবে এক একটি গ্রামের মত সব কিছু হাতের নাগালে সেই প্রতিযোগিতা পূর্ণ পৃথিবীতে নতুন বাংলাদেশের নেত্রীত্ব কাদের কাছে থাকবে, তারা কিভাবে পরিচালনা করবে? এটা একটি চ্যালেঞ্জ। সেই বিবেচনা করে দলের নেতা কেমন হবে তা নিয়ে দলের মধ্যে অনেক জল্পনা কল্পনা করা হচ্ছে। সেচ্ছাসেবক লীগ, যুব লীগ এর কমিটিতে উচ্চ শিক্ষত ও সৎ লোকের মূল্যায়ন লক্ষ্য করা যায়। আশা করছি এবারের সম্মেলনে উচ্চ শিক্ষত, দক্ষ দেশ প্রেমিক ও সৎ ও তরুণ কর্মীদের সঠিক মূল্যায়ন হবে। বিশিষ্ট সাংবাদিক সফিউল আযম বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে তরুণ প্রজন্মের কাছে। তরুণদের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো অর্জনের প্রতিশ্রুতিও ব্যতিক্রম।
তরুণদের জন্য একটি বাস্তবধর্মী ইশতেহার উপহার দেয়ার জন্য তরুণদের মধ্যে যেমন আশার সঞ্চার হয়েছে, তেমনি এটি বাস্তবায়নের জন্যও প্রয়োজন তারুণ্যবান্ধব দল, যা সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে, সহায়কশক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। যুবশক্তিকে ‘সোনার বাংলা’ ও ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার প্রধানতম শক্তি আওয়ামী লীগের ইশতেহার চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে এ ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ভূমিকাও অনেক। তরুণ প্রজন্মের বাসযোগ্য সমাজ প্রতিষ্ঠায় তারুণ্যবান্ধব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা গেলে, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এবং সৃজনশীল একদল তরুণ দলের নেতৃত্বে আসতে পারলে প্রগতিশীল ও সৃষ্টিশীল একটি সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ আরও প্রশস্ত হবে একথা বলা যায়।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ দে বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১ তম সম্মেলনে এমন নেতৃত্ব আমরা চাই, যিনি বা যারা দেশের কাজে দশের কাজে নিজ স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কমপক্ষে দুই যুগ নিবেদিত চিত্তে কাজ করে চলেছেন।
কেননা বিগত এই সময় টুকুতে তরুণ নেতৃত্ব খানিকটা হলেও ক্রান্তিকাল অতিক্রম করেই আজ পর্যন্ত ‘বঙ্গবন্ধু’র তথা দেশরতœ শেখ হাসিনা'র আদর্শ নিয়ে দলের প্রতি নিবেদিত আছেন। সাবেক ছাত্র নেতাদের মধ্যে যারা বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে পরিচ্ছন্ন ইমেজ নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে দায়িত্বকাল শেষ করেছেন তাদের মধ্য থেকেও যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করা যেতে পারে। এমনকি বর্তমান কমিটিতে যারা দায়িত্বশীল পদে ছিলেন এবং নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করেছেন তাদেরকেও আরেক ধাপ এগিয়ে সামনে নিয়ে আসার বিষয়টি ভাবা যেতে পারে। পরিশেষে আমি মাননীয় সভানেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার কণ্ঠে সুর মিলিয়ে বলতে চাই নতুন নেতৃত্ব হবে দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত যেখানে থাকবে ভদ্র, বিনয়ী, সুশিক্ষিত এবং জনবান্ধব ব্যক্তি যা পরিচালিত হবে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।
তরুণ প্রকৌশলী রনক আহসান বলেন, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন ও ডিজিটাইজেশনে প্রকৌশলীদের অবদান অনস্বীকার্য।
তারা দেশের বিদ্যুৎ, নদী শাসন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, যোগাযোগ, শিক্ষা, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, নিরাপত্তা ইত্যাদি সকল খাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ যে আজ বিশ্বের দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে সেটা সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা'র দূরদর্শী নেতৃত্ব, দেশপ্রেম আর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই চ্যালেঞ্জিং যুগে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে আছেন ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় যিনি নিজেও একজন তরুন প্রকৌশলী। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময় তারুণ্যের শক্তিতে আস্থা রাখে। সামনে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। আমি আশা করবো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে মেধাবী তরুণ প্রকৌশলী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে।