প্রিন্ট এর তারিখ: July 23, 2026, 2:28 pm || প্রকাশের তারিখ: January 6, 2020, 2:14 pm
লালমনিরহাট সংবাদদাতা।। খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে কৃষকদের কাছ থেকে কোন অবস্থায় টাকা না নেয়ার কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এ নিয়ম মানছেন না লালমনিরহাটে আদিতমারী উপজেলা খাদ্যগুদামে। খাদ্য গুদামের লেবার ও কর্মকর্তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন এখানকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা। আর এ কাজে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আজম হাবিবুল হকের বিরুদ্ধে। তার নেতৃত্বেই বস্তা প্রতি ২০ টাকা করে নিচ্ছেন গোডাউনের লেবাররা।
জানাগেছে, গত ২ জানুয়ারী খাদ্য অধিদপ্তর থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। যার স্মারক নং-১৩.০১.০০০০.০৮১.৩২.০৪২.১৪-০১, তারিখ-০২/০১/২০২০ ইং। এ পরিপত্রে নির্দেশনা দেয়া আছে,আমন সংগ্রহ ২০১৯-২০ এর আওতায় কৃষকদের অধিক উৎপাদনে উৎসাহিতকরণ এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রদানের লক্ষ্যে,সরকারী গুদামে ধান-চাল বিক্রয় কার্যক্রমে যাতে কোনরুপ অনিয়ম ও দুর্নীতি না হয় সেজন্য বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে।
প্রচলিত নিয়মে সররকারী গোডাউনে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকের ধান বস্তাবন্দী, বস্তা সেলাই, বস্তায় স্টেনসিল প্রদান,ওজন গ্রহণ, বিক্রিত ধান গুদামে উঠিয়ে খামারজাতকরণ ইত্যাদি কাজের জন্য কোনরকম টাকা কৃষকদের কাছ থেকে নেয়া যাবে না। এসব লেবারদের বিল হ্যান্ডলিং ঠিকাদার কর্তৃক প্রদান করা হবে।
উপজেলা খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে আসা এসব কৃষকদের কাছ থেকে ওসিএলএসডির নির্দেশেই বস্তা প্রতি ২০ টাকা করে লেবাররা নিচ্ছে। টাকা দিতে দেরি হলে তার ধান গোডাউনে ঢুকানো হচ্ছে না। অনেকেই বাধ্য হয়ে তাদের চাহিদা মাফিক টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের বসিনটারী গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন (যার সিরিয়াল নং-৮৭) বলেন, ১৫ মণ ধান (১৫ বস্তা) গোডাউনে দিতে তাকে বস্তা উঠানোর জন্য ৩ শ টাকা দিতে হয়েছে লেবারকে। টাকা দিতে দেরি হলে তার ধান উঠাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এসময় ওই কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত থাকলেও কোন প্রতিবাদ করেননি তিনি। শেষে বিল নেয়ার আগেই ৩ শ টাকা দিতে হয়েছে তাকে। এ অভিযোগ শুধু তার নয়,এখানকার সব কৃষকরই একই অভিযোগ।
এদিকে ধান ক্রয়ের শুরু থেকে এখানে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এসব সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই ধান ক্রয় করা হচ্ছে। এসব সিন্ডিকেট কৃষকদের কাছ থেকে কৃষক কার্ড ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা করে দিয়ে কিনে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আজম হাবিবুল হক বলেন,ঠিকাদার বিল না দিলে কি করার আছে।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দীন বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে কোন টাকা নেয়ার নিয়ম নেই। তিনি খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে তিনি জানান।
আ/রিফাত