
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ওয়ারেছ হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে বরণে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির জন্য নির্ধারিত প্রেসিডেন্ট প্লাজা দিয়ে সংসদ ভবনে প্রবেশ করবেন আবদুল হামিদ। এ কারণে প্রেসিডেন্ট প্লাজা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ওই প্লাজা ধুয়ে-মুছে পরিচ্ছন্ন করার হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানানোর পরিকল্পণাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ভাষণ ও প্রবেশের সময় রেওয়াজ অনুযায়ী বিউগল বাজানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এ বিষয়ে সংসদ ভবনে মহড়াও চলতে দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অধিবেশনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এজন্য সংসদের ট্যানেল ও ড্রাইভওয়েতে যে কোন ধরনের গাড়ি রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে দর্শনাথীদের মোবাইল বাইরে রেখে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেকটি মোবাইল বিশেষ ভাবে পরীক্ষার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের বসার চেয়ার ঠিক আছে কীনা তা পরীক্ষা করা হয়েছে। অধিবেশন কক্ষের সকল মাইক্রোফোন পরীক্ষা-নিরীক্ষার করা হয়েছে। অধিবেশন চলাকালে সব লিফট ক্রুটিমুক্ত রাখতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংসদ ভবন ফুলসহ বিভিন্ন গাছ দিয়ে সাজানো হয়েছে। অধিবেশন চলাকালে অক্সিজেন সুবিধাসহ সার্বক্ষণিক একটি অ্যাম্বুলেন্স রাখতে বলা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, অধিবেশনের প্রথম দিনে গাইবান্ধা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত চলতি সংসদের সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকারের মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর অধিবেশন মূলতবির রেওয়াজ থাকলেও বছরের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিধান থাকায় অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য মূলতবি দিয়ে আবারো শুরু হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দিবেন। ওই ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করবেন।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্যানুযায়ী, বছরের প্রথম অধিবেশন সাধারণত দীর্ঘ হয়ে থাকে। তবে অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচী চূড়ান্ত হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। গত ৩০ জানুয়ারী চলতি সংসদের যাত্রা শুরু হয়। এছাড়া আগামী অধিবেশনে যেসব সরকারি বিল নিয়ে আলোচনা হবে এবং পাস হওয়ার কথা রয়েছে, সেগুলো হলো- কাষ্টমস বিল-২০১৯, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিল-২০১৯, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন (সংশোধন) বিল-২০১৯, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন বিল-২০১৯, বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল বিল-২০১৯, বাংলাদেশ বাতিঘর বিল-২০২০ এবং স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইনান্সশিয়াল কর্পোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাসম–হের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান বিল-২০২০।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম