আমাদের বাংলাদেশ
✉️ dailyamaderbd24@gmail.com f https://facebook.com/Dailyamaderbangladesh
প্রিন্ট এর তারিখ: July 11, 2026, 2:05 pm || প্রকাশের তারিখ: January 25, 2020, 1:36 pm
মেহেরপুর প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে ভাটাগুলোতে চলছে কাঠ পোড়ানোর মহাউৎসব
মেহেরপুর সংবাদদাতা।। কাঠ পোড়ানো যাবে না ইটের ভাটায়। সরকারের এমন কঠোর আইন থাকলেও মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন ইটের ভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে শত শত মণ কাঠ। প্রতিদিনই ট্রাক বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আনা হচ্ছে শত শত মণ কাঠ।

মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুরে অবস্থিত এস আর বি ব্রিকস, একই উপজেলার এস এম বি, মেহেরপুর সদর উপজেলার আশরাফপুর গ্ৰামে অবস্থিত এস বি আর ব্রিকস কর্তৃপক্ষ ইট পোড়াতে প্রতিদিন শত শত মণ কাঠ ভাটাগুলোতে ব্যবহার করছেন। সকলের সামনে এই অবস্থা চললেও বিষয়টি নিয়ে কারও কোনো পদক্ষেপ নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেহেরপুর-মহাজনপুর সড়কের পাশেই বিশাল জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এস আর বি ও এস এম বি  ব্রিকস। অন্যদিকে মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কের পাশেই শাপলা ব্রিকস, শফিকুল ইসলাম ব্রিকস, শিবপুর-ভবানীপুর জনবসতির কাছাকাছি জবা ব্রিকস, যার গোটা এলাকাজুড়েই রাখা হয়েছে কাঠ আর কাঠ। নানা প্রজাতির বড়-ছোট গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন কয়েকশ মণ কাঠ  ফেলা হচ্ছে ভাটার চুলায়। প্রতি বছর জ্বালানী হিসেবে কাঠই পোড়ানো হয় ভাটাগুলোতে।ভাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকার ভাটাগুলো কাঠের ওপর নির্ভর করেই চলছে। এখানে কয়লার ব্যবহার হয় না। এই ভাটায় বছরে আনুমানিক এক লাখ মণ কাঠের প্রয়োজন হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রতি এক লাখ ইট পোড়াতে ২ হাজার মণ কাঠের প্রয়োজন হয়। সেই হিসাবে ৫০ লাখ ইট পোড়াতে এক লাখ মণ কাঠের প্রয়োজন, যা বিভিন্ন মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাক বোঝাই কাঠ আসছে, আবার এলাকা থেকেও কাঠ সংগ্রহ করে তা পোড়ানো হয়। কিন্তু ভাটা তৈরির আইনে বলা আছে ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানো যাবে না। তারপরও প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে সকলের সামনে কাঠ পোড়ানোর যে দুঃসাহস ভাটার মালিকেরা দেখিয়েছেন, তা সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে আইনের প্রতি তাদের বৃদ্ধাঙুলি দেখানোর বিষয়টি।

জেলার অন্য ভাটাগুলোতেও কয়লা ব্যবহারের কথা বলে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। কাঠ পোড়ানোর ফলে পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে তা অপূরণীয়। প্রতিদিনই জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে কাঠ বোঝাই ট্রাক আসছে। টিনের চিমনির ভাটাগুলোয় প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপ গ্ৰহণে তা বন্ধ করা সম্ভব হলেও ভাটায় কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্ৰহণ না করায় জেলা জুড়ে ভাটাগুলোতে চলছে কাঠ পোড়ানোর মহাউৎসব। ইটভাটাগুলো থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় দূষিত হয়ে পড়ছে চারপাশের পরিবেশ। এতে একদিকে যেমন উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল অপরদিকে পরিবেশ হচ্ছে রীতিমত দূষিত।

আ/রিফাত
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ, মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২154- ০১৩১৮-৬৮০০৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম