নিজস্ব প্রতিবেদক।। আশুলিয়ায় 'টাঙ্গাইল রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ' নামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ আবদুল লতিফ। কিন্তু তার বড় ভাই প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সভাপতি মাসুদ রানা'র সাথে দ্বন্দ্বের কারণে গত বছরের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানগুলো ভাগ হয়ে যায়। বর্তমানে আশুলিয়ার ইউনিক এলাকার স্কুল শাখার মূল ক্যাম্পাসসহ কলেজ পরিচালনার দায়িত্ব পান মোহাম্মদ আবদুল লতিফ। এই ক্যাম্পাস থেকে এবার ২৮৪ জন শিক্ষার্থী আশুলিয়ার গণবিদ্যাপীঠ স্কুল কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
তবে সর্বশেষ গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে সংঘটিত দুইটি ঘটনার কারণে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনমনে বিভ্রান্তি সহ মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাতে আশুলিয়ার ইউনিক এলাকায় টাঙ্গাইল রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর বহুতল ভবনে আবাসিক ছাত্রদের কক্ষে এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। কলেজের সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্রদের দ্বারা এই ভবনে অবস্থানরত এবারের আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় সায়েম আলী নামের এক ছাত্র আহত হবার অভিযোগ পাওয়া যায়।
[caption id="attachment_18938" align="alignnone" width="248"]
অসুস্থ সায়েম[/caption]
এব্যাপারে ভুক্তভোগী ছাত্র সায়েম মিয়ার মা সালমা মুঠোফোনে জানান, তার ছেলে এই বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছে। কিছুদিন পূর্বে ভালো ফলাফলের আশায় আবাসিক শিক্ষকদের তত্বাবধানে হোস্টেলে তার ছেলেকে পাঠান তিনি। কিন্তু বুধবার রাতে কলেজের সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্ররা তার ছেলেকে অন্য একটি রুমে নিয়ে বেদম প্রহার করে। পরে আশুলিয়া থানার পুলিশ এসে তার ছেলেকে উদ্ধার করে।
বর্তমানে তার ছেলে নারী ও শিশু হাসপাতালে চিকিতসাধীন উল্লেখ করলেও কেন তার ছেলের উপরে হামলা হয়েছে তা তিনি জানাতে পারেন নাই। তবে হামলার সময় ভবনে অবস্থানরত আবাসিক শিক্ষক এবং কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ এগিয়ে এসে কোনো ভূমিকা নেন নাই বলেও জানান হামলার শিকার ওই ছাত্রের মা সালমা বেগম।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ জানান, গত বুধবার দিবাগত গভীর রাতে কলেজের আবাসিক ভবনে যে অনাকাঙ্খিত হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা তাতক্ষনিকভাবেই মিটে গেছে। অভিভাবকদের উপস্থিতিতে রাত ৩টা থেকে ৪টার ভিতরেই এর সমাধান হয় এবং পরে এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়ারও সৃষ্টি হয়নি। কারণ এরকম কোনো বড় ব্যাপার ঘটলে স্থানীয় থানায় মামলা হতো। কিন্তু অভিভাবকদের পক্ষ থেকে রাতের ঘটনা নিয়ে থানায় কোনো অভিযোগই হয়নি।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম অংশীদার মাসুদ রানা বলেন, আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। আর এডমিট কার্ড নিয়ে আসলে কোনো কিছুই হয়নি। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটায় কলেজের আবাসিক ছাত্ররা নেশা করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়। এসময় বুয়েট ছাত্র আবরার কে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিলো, একই স্টাইলে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী সায়েম মিয়াকে একটি রুমে নিয়ে মারধর করে। তখন কৌশলে ওই হামলার শিকার ছাত্র তার মাকে ফোনে জানালে তার মাধ্যমে পুলিশ এসে ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে।
তবে প্রতিষ্ঠানটিতে বৃহস্পতিবার এর হামলা তার নেতৃত্বে হয়েছে এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও তাকে হেয় করার চক্রান্ত বলে জানান তিনি। মুঠোফোনে এসময় তিনি আরও বলেন, এডমিট কার্ড আসলে কোনো ফ্যাক্টর না, কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ নিজের অপকর্মকে ঢাকতে এরকম নাটকের অবতারণা করছেন। এব্যাপারে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ রিজাউল হক দিপু জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি।এদিকে, ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব ও এর জেরে চলমান সংকটে হতাশা ব্যক্ত করেছেন এখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম