
আমাদেরবাংলাদেশ ডেস্ক।। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নুরুল হুদা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন করিনি, করব না।’ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনসহ (ইভিএম) নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘এই দেশে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি রাজনৈতিক দলের আস্থা কোনো দিন দেখিনি। কমিশনের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা-অনাস্থা তাদের মানসিকতার ওপর নির্ভর করে। সুতরাং যারা ক্ষমতায় আছে তাদের বক্তব্য এক রকম হবে আর অন্য দলের ইসির ওপর আস্থা আসবে না—এটা দেশের পকিটিক্যাল কালচার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
সিইসি বলেন, সিটি নির্বাচন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য আছেন, নিরাপত্তার দিক থেকে কোনো অসুবিধা হবে না। তিনি বলেন, ‘ভোটাররা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন—এটাও বিশ্বাস করি না। ঢাকার দুই সিটির সব ভোটারকে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নুরুল হুদা বলেন, নিরাপদে ভোট হবে, বিশেষ করে ইভিএমে ভোট হবে। প্রিসাইডিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ইভিএম বিষয়ে যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা যেকোনো সাহায্য-সহযোগিতা করবেন। ভোটাররা নিজেদের ইচ্ছামতো ইভিএমের মাধ্যমে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, এই আহ্বান জানাই আমি।
কেন্দ্রে বহিরাগতরা ঢুকে সমস্যা করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলেছি, তারা যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রার্থীরা নিজেদের ইচ্ছামতো প্রচার চালিয়েছেন। আমি মনে করি, তাতে ভোটারদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও আস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সিইসি কে এম নুরুল হুদা পরে সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আশা করি আজ ঢাকার দুই সিটিতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। কোথাও কোনো অসুবিধা নেই। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটে অংশগ্রহণ করবেন।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সঙ্গে বৈঠকের সময় এজেন্টদের শেল্টার দিতে বলেছি। যখনই তাঁরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকবেন, তখনই তাঁদের দেখভাল করার দায়িত্ব কিন্তু যাঁরা ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন। এজেন্ট কাউকে না জানিয়ে অনেক সময় বের হয়ে যান, তখন বলেন যে আমাদের এজেন্ট নেই। এমন হলে তো হবে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যদি থাকে, যদি না শুনে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করবেন। আমাদের পর্যন্ত আসার দরকার নেই।’ এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘এজেন্টদের প্রতি প্রথম অনুরোধ, তাঁরা যেন দায়িত্ব নিয়ে থাকেন। কেউ এসে বলল আর বের হয়ে যাবেন, তা যেন না করেন। এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা যদিও নেই, তবুও যদি ঘটে টহলদার বাহিনী থাকবে, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন, তাঁদের বলবেন। সুতরাং এটার কোনো সম্ভাবনা নেই।’
ভোটারদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ‘ভোটাররা নির্বিঘ্নে অবাধে অংশগ্রহণ করবেন। তাঁদের কোনো অসুবিধা নেই। প্রচারের সময় যেভাবে প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন, ভোটার সমর্থকরা যেভাবে রাস্তায় নেমে এসেছে, ওটা একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সব দল অংশ নিয়েছে। ভোট প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতামূলক হলে পরিবেশ সুন্দর হয়।’ ভীতিকর পরিস্থতিতে ভোট কর্মকর্তারা দায়িত্ব নিতে চান না-এমনটি উল্লেখ করে তেমন পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে সিইসি বলেন,‘আমাদের তিন ধরনের ব্যবস্থা আছে। ভোট দেওয়ার পরে কেউ কেন্দ্রে থাকতে পারবে না। জটলা করতে পারবে না। নিষ্প্রয়োজনে বাইরের কোনো লোক যেন কেন্দ্রে না আসে সে বিষয়ে নিরুৎসাহী করছি। এতেই কাজ হবে।’ ইভিএম কন্ট্রোল ইউনিট ওপেন করার পর ব্যালট ইউনিটে একজনের ভোট আরেকজন নির্দিষ্ট প্রতীকে মারতে পারে-এমন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিইসি বলেন, ‘না না না, তা মারতে পারে না।
বুথের মধ্যে একজনেরটার মধ্যে আরেকজন মারতে পারে। কিন্তু কে সেটা? যদি সে ভোটার অন্ধ হয়, যদি সে ভোটার অক্ষম হয়, যার হাত ব্যবহার করতে পারে না। আগে যে নিয়ম ছিল সেটাই রাখা হয়েছে। মা যদি অন্ধ হন তবে ছেলে যাবে, কিন্তু ব্যবহার হবে মায়ের আঙুলের ছাপ, তাঁর ভোটই ওপেন হবে, সেটাতেই ভোট দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আগে যেমন হতো ছিনতাইটিনতাই হতো। ইভিএম এমন একটি বিষয়, ভোটারকে সেখানে যেতে হবে। ভোটার না গেলেও ভোট হয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল।’লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই বলে বিএনপি যে অভিযোগ করেছে সে প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘তারা প্রচার করেছে, মিছিল করেছে, বাড়ি বাড়ি গিয়েছে, কোথায় তাদের বাধা দিয়েছে? এটা ঠিক নয়।’ সিইসি বলেন, ‘ইভিএম নতুন একটি প্রযুক্তি। অবশ্যই সবার সহযোগিতা দরকার।’
একজন ভোটার আঙুলের ছাপ দেওয়ার পর অন্য আরেকজন কোনো মার্কায় টিপ দিতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘না, ভোট এত সহজ জিনিস নাকি?’ এ দিকে নির্বাচন কমিশন সাংবাদিকদের সামনে এমন মন্তব্য করেন তিনি।ইভিএম নিয়ে জালিয়াতির আশঙ্কার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘ইভিএম এমন জিনিস, যেখানে ভোটারকে যেতে হবে। একজনের ভোট আরেকজনের দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম