
আহসান টিটু।। প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর রক্ষা কবজ শরণখোলা উপজেলা ঘেষা বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী পাউবোর ৩৫/১ পোল্ডারের ভেরিবাঁধটি মাটির পরিবর্তে বালু দিয়ে নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে।
যার ফলে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়ার পাশাপাশি উপকূলে বসবাসরত বাসিন্দারা অনেকটা হতাশ হয়ে উঠেছেন। এছাড়া বাঁধের ওপরের অংশে সামান্য মাটি ব্যবহার করলেও সে ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের ।
বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৭ সালে ৩৫/১ পোল্ডারের ৬৩ কিলোমিটার দৈঘ্যের বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেন চায়নার (এইচ সি ডব্লিউ) নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পাশ্ববর্তী উপজেলা মোড়েলগঞ্জের খাউলিয়া ইউপিসহ শরণখোলা উপজেলার ৪টি ইউপির অভ্যন্তরে ৬৩ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে অর্ধশত স্লুইসগেইট নুতন করে নির্মাণ কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
এ প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তেমন নজরদারি না থাকায় ঠিকাদার সংশ্লিষ্টরা মাটির পরিবর্তে বাঁধের পাস থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে স্লুইসগেইটসহ বাঁধ নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। যার ফলে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে রক্ষার হাতিয়ার পাউবোর বাঁধটির স্থায়িত্ব নিয়ে শংঙ্কিত হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় জনগোষ্ঠী।
ঠিকাদারদের একটি সূত্র জানায়, প্রতিটি স্লুইসগেট নির্মাণের পর তা মাটি দিয়ে ভরাট করার কথা থাকলেও তার পরিবর্তে লাখ লাখ ফুট (সি.এফ.টি) নিম্ন মানের বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। ওই গেইটগুলো ছেড়ে দেয়ার পর তা থেকে পানি নিঃষ্কাশন শুরু হলে ভবিষ্যতে তা লিক করে ভেতরে পানি প্রবেশ করে বালু সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে স্লুইস গেটগুলো এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসবে না। এছাড়া বাঁধের ওপরের অংশে সামান্য কিছু মাটি দিলেও কোনো ধরনের পরীক্ষা না করেই ময়লা যুক্ত. কাঁদাসহ স্যাত স্যাতে মাটি দিয়ে বেরিবাঁধে প্রলেপ দিয়ে অনেকটা দায় সারছেন সংশ্লিষ্টরা।
অপরদিকে, উপজেলার তাফালবাড়ি, চালিতাবুনিয়া, খোন্তাকাটা, রায়েন্দা সহ কয়েকটি এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, প্রসাশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ম্যানেজ করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র বালু লুট করলেও রহস্যজনক কারণে তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
উপজেলার রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা মো. রেজাউল করিম খান রেজা বলেন, বাজার রক্ষার নামে অবৈধ দখলদারদের বাঁঁচিয়ে শরণখোলা উপজেলার প্রধান খালের ভেতর থেকে ৯৫ ফুটের শহর রক্ষাবাঁধ নির্মিত হলে ধীরে ধীরে খালটি মারা যাবে। যার ফলে উপজেলার দু’লক্ষাধিক মানুষের কৃষি ও গৃহস্থালী কাজে ব্যবহারের জন্য পানির প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাবে। মানুষের দুঃখ-কষ্ট সহ পরিবেশের বিপর্যয় ঘটবে। গাছপালা মারা যাওয়া পাশাপাশি ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে। কৃষি নির্ভরশীল পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়বে।
রায়েন্দা খাল রক্ষায় তিনি হাইকোটে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছেন। হাইকোর্টের সেই নির্দেশ মানছেন না সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রকল্প এলাকায় উপযুক্ত মাটির সংকট রয়েছে। বাঁধের নিচের অংশে বালু দেয়ার নিয়ম আছে। তাই কোনো সমস্যা হবে না।
ইউএনও সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে যার বালু তুলছেন তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া শুরু হয়েছে। এ অভিযান চলমান থাকবে। তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদুজ্জামান বলেন, এ ক্ষেত্রে পাউবো বাগেরহাট অফিসের কিছুই করার নেই। প্রকল্পটি শেষ হলে আমাদেরকে শুধু বুঝিয়ে দেয়া হবে ।
এ বিষয়ে প্রকল্পটির ডেপুটি টিম লিডার মো. হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে জানান, নিয়ম অনুসারে বেরিবাঁধের কাজ চলছে। সব ক্ষেত্রে আমাদের তদারকি আছে। তবে, ২/১টি স্থানে কিছু বালুর ব্যবহার হচ্ছে। এতে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে কোনো সংশয় নেই। অবৈধ বালু উত্তোলনে দেখার দায়িত্ব প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের নয়। এটা সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনের বিষয় ।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম