বেনাপোল প্রতিনিধি।।করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারত থেকে আগত পাসপোর্ট যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের নামকাওয়াস্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলেও রেলরুটে রাখা হয়নি তেমন কোন ব্যবস্থা। আমরা জানি, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর খুলনা-কলকাতা রুটে "বন্ধন এক্সপ্রেস" ট্রেন চালু করা হয়। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন যাত্রীবাহী ট্রেন যা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতা থেকে বাংলাদেশের খুলনা শহরের মধ্যে যাতায়াত করে। খুলনা- কলকাতা রুটে যাতায়াতকারী বন্ধন এক্সপ্রেসে দেশী-বিদেশী পাসপোর্ট যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা নাই। এছাড়াও ভারতীয় সিএন্ডএফ স্টাফ কর্মচারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে মরনঘাতি এ ভাইরাসটি এ বন্দর দিয়ে আক্রান্তদের মাধ্যমে সংক্রমনের যথেষ্ট ঝুকি থাকছে।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এখনও পর্যন্ত বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতকারীরা সবাই স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় আসেনি। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে আগত সকল যাত্রীদেরকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য কর্মীদের পুলিশি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। বেনাপোল রেল ষ্টেশন মাস্টার মাইদুল ইসলাম বলেন, এপর্যন্ত করোনা ভাইরাস সনাক্তে রেলপথে যাতায়াতকারী দেশি-বিদেশি যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সংক্রমন এড়াতে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় আনা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কর্তব্যরত স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী কমিউিনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল মজিদ জানান, বেনাপোল ইমিগ্রেশনে ভারত ফেরত যাত্রীদের পাশাপাশি গত দুই দিন ধরে তারা বন্দরে পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাক চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করেছেন। এ পর্যন্ত ৭(সাত) শত চালককে তারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। এদেন সবাই ছিল করোনা ভাইরাসের শঙ্কামুক্ত। রেল পথে যাতায়াতকারী দেশি-বিদেশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনকারী কার্গো সদস্যদের শ্রমিকদের মাধ্যমেও এ ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। বিষয়টি মাথায় রেখে উধ্বর্তন কতৃৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা দিলে তাদেরকেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনটি সপ্তাহে একদিন বৃহস্পতিবার যাত্রী নিয়ে কলকাতায় যায়। আবার ঐ দিনই কলকাতা থেকে যাত্রী নিয়ে ফিরে আসে। সব মিলিয়ে বেনাপোল স্থল আর রেল পথে প্রতিদিন দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করে থাকে ৮ থেকে ১০ হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী। এসব যাত্রীদের মধ্যে ১২ শতাংশ রয়েছে বিদেশি যাত্রী। তাই এ সীমান্তে ভাইরাসটি সংক্রমণের ঝুকি বেশি রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি/২০২০ ইং চীন দেশে প্রথম এই করোনা ভাইরাসটি দেখা দেয়। বর্তমানে ১৪টি দেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে জানা যায়, এ পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে প্রায় ৫শ জনেরও বেশি।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম