মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা।। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নির্দেশে সারাদেশের ন্যায় মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম মেশিন (ডিজিটাল হাজিরা মেশিন) ক্রয় করা হয়েছে। কিন্তু সিরাজদিখান উপজেলার ১২৮ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয়ে মন্ত্রনালয়ের কোন নির্দেশই মানা হয়নি। আইন বর্হিভূতভাবে সেই ডিজিটাল মেশিন প্রায় দ্বিগুন দামে ক্রয় করায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্বে পুকুর চুরির অভিযোগ রয়েছে।
মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ অমান্য ও মেসিন ক্রয়ে পুকুর চুরির অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মালামাল ক্রয়ের বিরুদ্বে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।
জানা যায় যে, মন্ত্রণালয়ের আদেশে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয়ের নিয়ম উল্লেখ করে বলা হয়, “স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাজার থেকে যাচাই করে সাশ্রয়ী মূল্যে নিজেদের পছন্দমতো ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় করে স্কুলে স্থাপন করবে”। কিন্তু সিরাজদিখান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বেলায়েত হোসেন সেই নির্দেশ অমান্য করে সিরাজদিখান উপজেলার ১২৮ টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে নিজেই তার পছন্দ মাফিক কোম্পানী থেকে মেশিন ক্রয় করে কোম্পানীর মাধ্যমে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়। এব্যাপারে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল হাজিরা মেসিনের মডেল, ক্রয় মূল্যে ও ফিটিং চার্জের ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান।
শিক্ষা কর্মকর্তা উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালগুলোর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ফান্ড থেকে ডিজিটাল হাজিরা মেসিন ক্রয় বাবদ বিভিন্ন স্কুল থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা অর্থাৎ ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কেটে নিয়েছে। অথচ বিভিন্ন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিনিধিকে জানান, এ মেশিনটির বাজারমূল্য আনুষঙ্গিক পার্টসসহ খরচ পরে সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ হাজার টাকা। গত মে মাসে এসব মেসিন লাগানো হয়েছে। কিন্তু বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম চালু করার সময় পার হলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে এখনও কার্যক্রম চালু করা হয়নি।
খোজ নিয়ে জানা যায় যে, সিরাজদিখান উপজেলার পার্শ্ববতী শ্রীনগর উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে একই মেশিন অতিরিক্ত প্রায় ১৫ হাজার টাকায় ক্রয় করা হয়েছে বলে জানা যায়।
উপজেলার রশুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকশানা বেগম বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমাদের ¯িøপের টাকা থেকে ৩৩ হাজার টাকা নিয়েছে ডিজিটাল শিক্ষক হাজিরা মেসিন ক্রয়ের ব্যাপারে। আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ না করে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন প্রথমে ভিসতা কম্পিউটার কোম্পানীর মাধ্যমে আমাদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেয় গত মে মাসে। ঐ কোপানীর প্যাডে উল্লেখ ছিল ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর মাসে আবার প্রত্যাশা কমিউনিকেশন এন্ড ইনফরমেশন সিষ্টেম কোম্পানীর মাধ্যমে ৩২ হাজার ৯শত ৪৫ টাকার বিল পাঠায়। কিন্তু ডিজিটাল মেশিন ক্রয়ের পূর্বে আমাদের সঙ্গে কোনরুপ যোগাযোগ করেনি শিক্ষা কর্মকর্তা।
এব্যাপারে উপজেলার গুয়াখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সামসুজ্জামান পনির, সতুরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এডভোকেট মোঃ রুহুল আমিন, চরবিশ্বনাথ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মোঃ আতাউর রহমান বলেন, আমাদের বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের সাথে কোনরুপ যোগাযোগ না করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তার ইচ্ছামাফিক নিজের পছন্দমত কোম্পানীর মাধ্যতে ডিজিটাল শিক্ষক হাজিরা মেশিন আমাদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়। এছাড়াও উপজেলা বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভের সহিত বলেন যে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের চাপের মধ্যে রাখে। তার নির্দেশ অমান্য করলে আমাদের চাকুরির অসুবিধা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। তাই চাকুরির ভয়ে আমরা তার কথা মত কাজ করছি। তার বিরুদ্বে আরো অভিযোগ করেন যে তিনি দীর্ঘ পাচ বছর যাবত সিরাজদিখান উপজেলায় কর্মরত। কিন্তু নিয়মানুযায়ী একজন কর্মকর্তার দুই বছরের বেশী একই উপজেলা থাকার নিয়ম নেই।
এব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন, আমি উপরের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করেছি। তার কাছে সরকারী ক্রয় অর্ডার পত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশফিকুন নাহার বলেন, এব্যাপারে স্থানীয় মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নির্দেশে শিক্ষা কর্মকর্তার এই দূর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্বে উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান মইনুল হোসেন নাহিদকে সভাপতি করে পাচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম