নিজস্ব প্রতিবেদক।। রাস্তার পাশে পড়ে রয়েছেন কোন মানসিক ভারসাম্যহীন অসহায় এক রোগী। শরীর পচে বের হচ্ছে দূর্ঘন্ধ। পাশে দিয়ে হেটে চলছেন ব্যস্ত নগরী চট্রগ্রামের বাসিন্দারা। যেন দেখার কেউ নেই। কিন্তু এমন একজন রয়েছেন যার মন কাদেঁন অসহায় লোকদের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য। পরম যত্নে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন পুলিশের সুপারম্যানখ্যাত মানবিক পুলিশের সদস্য মুহাম্মদ শওকত হোসেন। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মানবিক পুলিশ শাখার টিম লিডার হিসেবে।
নোয়াখালীর সন্তান শওকত সারাটি জীবন ব্যয় করেছেন সেবার পরম ব্রতে। তার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। পুলিশে কাজ করছেন প্রায় ১৫ বছর ধরে। পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে ২৪তম ব্যাচে যোগ দেন ২০০৫ সালে। তখন তার মূল বেতন ছিলো ২ হাজার ৮৫০ টাকা। সবকিছু মিলিয়ে বেতন পেতেন ৫ হাজার টাকা। ওইসময় আর্থিক অনটনে দিন অতিবাহিত করতেন। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে তার মুক্তিযোদ্ধা বাবা ধৈর্য রাখতে বলতেন। বাবার কথায় পথ চলতে শূরু করেন তিনি।
প্রতিদিনই কোন না কোন মানসিক ভারসাম্যহীন অসুস্থ লোকের সেবা করেছেন তিনি। এসব সহযোগিতা করতে গিয়ে পোহাতে হয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা। বেতনের প্রায় অর্ধেক টাকাই ব্যয় করতেন এসব ভারসাম্যহীন লোকদের সহয়োগীতায়। পারিবারিক ও অফিসের অনুষ্ঠানে যেতেন সহকর্মীর পোশাক পড়ে।
পুলিশে যোগদানের পর ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। এরপর বদলি হয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে আসেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষার অধীনে মেডিক্যালের ওপর তিন বছরের ডিপ্লোমা ও দুই বছরের প্যারা মেডিক্যালের বিষয়ে লেখাপড়া করেন।
অসহায় রোগীর পাশে মানবিক পুলিশ সদস্য মুহাম্মদ শওকত হোসেন২০০৯ সালে কিছুদিন রাঙামাটিতে কর্মরত থাকার পর শওকত হোসেনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে বদলি হন। দায়িত্ব ছিলো রাঙামাটি থেকে আসা আহত পুলিশ সদস্যের সেবা দেওয়া। একসময় তাকে ওটির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তখন থেকে তার রোগীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে রাস্তার ধারে পড়ে থাকা ভারসাম্যহীন অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে এনে সুস্থ করে তুলতেন তিনি। প্রথম দিকে নিজেই একা কাজ করলেও এখন তার সহযোগী আছেন ১০জন। প্রতিদিনই কোনো না কোনো রোগীকে হাসপাতালে এনে সুস্থ করে তুলছেন শওকত হোসেন।
এ ব্যাপারে তার স্ত্রী সর্বাত্নক সহযোগিতা করেন জানিয়ে তিনি শওকত জানান, তিনি বরং আমাকে এ কাজে সাহায্য করেন। আমার আশা, দেশের মানুষ এসব রোগীর জন্য এগিয়ে আসবেন। সবাই এগিয়ে এলে তখনই আমার পরিশ্রম সার্থক হবে’ যোগ করেন তিনি।
(ঢাকা এফএম রেডিও ইন্টারভিউ থেকে)
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম