ভাষা শহীদদের মর্যাদা রক্ষায় সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তবে, বিশিষ্টজনরা বলছেন, মর্যাদা রক্ষা করা হয়েছে বলেই আজ বাংলা ভাষা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছে।
বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালাবাসায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মরণ করতে আসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। ফুলে ফুলে ভরে যায় শহীদ বেদী। বাঙালির মননে অনন্য মহিমায় ভাস্মর, চিরস্মরণীয় একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু মাতৃভাষার অধিকার রক্ষাই নয় মুক্তিসংগ্রামেও অফুরস্ত প্রেরণার প্রতীক।
শ্রদ্ধা জানাতে এসে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, 'একুশের চেতনা আমাদের মাথা উঁচু করে চলতে শেখায়, বাংলা ভাষা মায়ের মুখে হাসি ফোটায়।' তবে, তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে তরুণ প্রজন্মকে বাংলা ভাষার পাশাপাশি অন্যভাষাও শেখার কথা বলেন বিরোধী দলীয় নেতা।
বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, 'অপসংস্কৃতির কারণে বাংলা ভাষা তার মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে।'
ভাষা শহীদের শ্রদ্ধা জানাতে এসে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানান রাজনীতিবিদরা। জাসদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার বলেন, 'আমাদের দেশে এখনও সর্বস্তরে আমরা বাংলা ভাষা চালু করতে পারিনি, সমস্ত স্কুল-কলেজগুলোতে এখনও শহীদ মিনার তৈরি করতে পারিনি।'
গণদসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি জানান, বাংলা ভাষা আজও রাষ্ট্রভাষা হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থা বা শাসন ব্যবস্থায় পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
অন্যদিকে বিশিষ্টজনরা বলছেন, মর্যাদা রক্ষা করা হয়েছে বলেই আজ বাংলা ভাষা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, 'বাংলা ভাষা ও একুশের চেতনা এখন শুধুমাত্র বাংলাদেশের ভূখন্ডে সীমাবদ্ধ নয় বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়েছে।'
