প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১:১৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ২৬, ২০২০, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ

নোবিপ্রবি সংবাদদাতা।। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ ২৬ মার্চ। বাঙালি জাতির জীবনে অনন্যসাধারণ একটি দিন,আবেগের একটি দিন।সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায় দিনটি। দিনটি আসলেই মনে পড়ে যায়,১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে নিরীহ বাঙালি জাতির উপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের কথা।আরো মনে পড়ে যায়,১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার কথা।সেই স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনার এই সময়টি বাঙালি জাতির কাছে আবেগের।এই স্বাধীনতা দিবস ও স্বাধীনতা নিয়ে রয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের হাজারো ভাবনা। এই তরুণদের ভাবনা নিয়েই আজকের প্রতিবেদন।
মাৎস্য ও সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ড. মুহাম্মদ শাহানুল ইসলাম বলেন,স্বাধীনতা মানে যেকোনো কিছু করে ফেলা, বলে ফেলা নয়। স্বাধীনতা মানে হলো সুশৃংখল মতামত, স্বাধীনতা মানে হলো সামাজিক কল্যাণময় কাজ করা, স্বাধীনতা মানে হলো বিশুদ্ধ বাতাস বুক ভরে নেবার সুযোগ।
খাদ্য প্রযুক্তি ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃতাশদীদুল আলম সাঈম বলেন,স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা দিবস নিয়ে বলতে গেলে বলতে হয়, ১৯৪৭ এর পর থেকেই শিড়দাঁড়া উঁচু করবার যে লড়াই বাংলাদেশের জনসাধারণের ভেতর দানাবাঁধতে শুরু করেছিলো, ২৬ মার্চ তার ই চূড়ান্ত প্রকাশ।মূলত বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের সেই রক্তে আগুন লাগা ভাষণের পর থেকে, স্বাধীনতার ঘোষণা, স্বাধীনতা আন্দোলন, এ ছিলো কেবল ই ক্ষণগণনা! ২৫ মার্চের কালো রাতে, হানাদারদের থাবার মুখে, জাতির জনক ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে যে চূড়ান্ত স্বাধীনতার ডাক দেন, তা ই তো আমরা পালন করছি এখন। জাতিগতভাবে, নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বের মানচিত্রে আমরা একটা স্বাধীন ভূখন্ড পেয়েছি এ কথা সত্য।কিন্তু এখন সময়, চূড়ান্তভাবে সর্বক্ষেত্রে স্বাধীনতা এবং বিজয়ের প্রয়োগ করার।এখন সময় দেশ কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।দেশ এগিয়ে চলবে দূর্বার গতিতে। আমার জন্য থামবে না দেশ, এই হোক স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষের অঙ্গীকার! দেশ হোক সোনার বাংলা!জয় বাংলা!"
অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাইয়েদা ফাবিয়া আলী বলেন,"স্বাধীনতা তো এখন আর নেই, আগে হয়তো ছিলো। এখন কেউ তো মুখ ফুটে কিছু বলতে ও পারে না, বিপরীত কিছু বললেই গায়েব হয়ে যায়। এবার এর স্বাধীনতা দিবসে যদি সকলে নিজের মত প্রকাশের সুযোগ পায় তাহলেই সবচেয়ে বেশি খুশি হবো।"
অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিথিলা চৌধুরী বলেন,আমরা কি সত্যিই স্বাধীন? স্বাধীনতার স্বাদ কি আমরা অনুভব করতে পারছি পুরোপুরিভাবে? অথচ প্রতি বছর এই একটি দিনে আমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করি।পরবর্তী স্বাধীনতা দিবস আসার আগেই যদি আমাদের মৌলিক চাহিদা গুলো নিশ্চিত করতে পারি তবেই এই দিবস পালন স্বার্থক।আমার কাছে মনে হয়,আমরা এই দিনে যেটা পালন করি সেটা আসলে ছোট খাট একটা মিলনমেলা, বন্ধু বান্ধবদের সাথে দেখা করা।"
কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন,মহান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য আমার কাছে বহুমুখী হিসেবে ধরা দেয়। আমি মনে করি যে উদ্দ্যেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ডাকে তৎকালীন পূর্ববাংলা তথা বাংলাদেশেরমানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো সে লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য থেকে আমরা এখনো অনেক দূরে আছি। জনগণের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ষোলকলা যেদিন পূর্ণ হবে সেদিনই লাল সবুজ পতাকাকে পরিপূর্ণভাবে নিজের বলে মনে হবে। এখন অব্দি পতাকার মাহাত্ম্য শুধুমাত্র অনুধাবনেই সীমাবদ্ধ বলে আমি মনে করি। দেশ মাতৃকার প্রতি ভালোবাসা অনুভবের চেয়ে বাস্তবতা খুব বেশি প্রাসঙ্গিক আমার কাছে। তাই সর্বক্ষেত্রে প্রত্যেকটি নাগরিককে এই ব্যাপারে কাজ করা উচিত। নিজেদের জায়গা থেকে নিজের দায়িত্ব এবং কর্তব্যটুকু ঠিকঠাক ভাবে পালন এবং দেশের সরকারের প্রতিনিয়ত সুষ্ঠু নজরদারি একটি দেশকে খুব দ্রুতই উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের সমসাময়িক সময়ে স্বাধীন হওয়া দেশগুলো সেটির স্পষ্ট প্রমাণ রাখে। মহান ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আমি বিশ্বাস করি আমরা সবাই মিলে চাইলেই দেশটাকে অতি দ্রুত উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যেতে পারি। এর জন্য সরকার এবং জনগণ; সকলের একসাথে কাজ করা জরুরি। উন্নয়ন যেন শুধুমাত্র সংবাদ সম্মেলনের বিষয়বস্তু না হয়ে বাস্তবে আসবে এটাই প্রত্যাশা করি।"
অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব বলেন,"স্বাধীনতা মানেই মুক্তির স্বাদ, অধীনতার শিকল ভেঙে আত্মপরিচয়ে বেড়ে ওঠা। স্বাধীনতা দিবসে তাই প্রত্যাশার পারদ স্বাভাবিকভাবেই থাকে অনেক উপরে। কিন্তু বাস্তবতার খাতিরে ন্যুনতম নাগরিক সুবিধাপ্রাপ্তি, ভবিষ্যতের পরিকল্পিত বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্মিলিত প্রচেষ্টার শুরুটাই হবে আমার কাছে স্বাধীনতা দিবসের প্রত্যাশা।"
বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এস কে ফয়সাল আহমেদ বলেন,আমার ছোট বেলাটা কেটেছে নানাভায়ের মুখে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে, একজন নেতার গল্প শুনে। এমন একজন নেতার আদর্শের কথা তখন তিনি আমায় বলতেন যার জীবনে কোথাও আমার শব্দটা ছিল না, ছিল শুধু আমাদের। যিনি তার সারাটা জীবন ব্যয় করেছেন শুধু এবং শুধু মাত্র দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে। আজকের এই স্বাধীনতা দিবসে আমার সেই মানুষটির কথা মনে পরছে, তার সেই আদর্শের কথাই মনে পরছে। কেননা ২৫শে মার্চ রাতে যখন পাক হানাদার বাহীনি শুকুনের মত বঙ্গবন্ধুকে খুজছিল, তখন বঙ্গবন্ধু চাইলেই পালিয়ে যেতে পারতেন , নেতা কর্মীরা তাকে সেই পরামর্শই দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি যাননি, তিনি বলেছিলেন যদি ওরা আমাকে না পায় তবে ঢাকার শহরে রক্তের বন্যা বইবে, তোমাদের কাউকে ছাড়বে না। তার এই আদর্শই আমার কাছে স্বাধীনতার অপর নাম এবং আমি আমার মনে প্রানে এই আদর্শকে ধারন করি, সেই ছোট্টবেলায় যখন নানাভায়ের মুখে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতাম তখন থেকেই ধারন করি ।যে আদর্শ আমায় নিজের জন্য না, মানুষের জন্য বাচতে শিখায়, শেখায় কিভাবে জীবনটাকে সার্থক করা যায়,কিভাবে নিজেকে জ্বালিয়ে চারদিককে আলোকিত করা যায় । আর আজকের এই দিনে আমি মনে করি আমাদের সকলের উচিত আমাদের মহান নেতার এই আদর্শকে বুকে লালন করা. এবং করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সকলে এক সাথে কাজ করা।"
বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো: রিয়াদ হোসেন বলেন,"বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা শব্দটি স্বাধীনতাযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত। প্রকৃতপক্ষে, স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হয়েছে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম আজও চলছে এ বাংলায়। স্বাধীনতার ভাবনাগুলো হওয়া উচিত ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তার বাইরে এসে সামষ্টিক চিন্তাকে দৃঢ় করা। যে উদ্দেশ্য নিয়ে স্বাধীনতার স্বাদ বাঙালি জাতি গ্রহণ করতে চেয়েছিল, সে উদ্দেশ্যের যথার্থ প্রতিফলনই স্বাধীনতার সফলতা। আমার কাছে স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়, আমার কাছে স্বাধীনতা মানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রেরণা। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালন পদ্ধতি ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা।"