জাহাঙ্গীর আলম রাজু।। শীত মৌসুম যেতে না যেতেই আশুলিয়ায় থানার বিভিন্ন এলাকাতে বেড়েছে মশার উপদ্রব। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,অফিস-সহ সর্বত্রই মশার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। বর্ষার আগেই মশা বেড়ে যাওয়ায় গ্রাম বাসীকে তাড়া করছে গত ডেঙ্গু মৌসুমের ভয়। মশকনিধনে এখনই কার্যকর ওষুধ ছিটানোর কর্মসূচি হাতে না নিলে এবার গেল মৌসুমের ভয়াবহতা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আশুলিয়া যে পরিমাণ মশার ক্ষেত্র শুধু ওষুধ ছিটিয়েই তা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে ভাষ্য, সাভার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও স্বনির্ভর ধামসোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের।
গত মৌসুমে (আগস্ট-নভেম্বর) এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সারাদেশে আক্রান্ত হয়ে কয়েক লাখ মানুষ চিকিৎসা নেন। ওইসময় মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রমে ব্যাপকভাবে তৎপর হয়। ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদে সমালোচনা হয় মশার ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও। ডেঙ্গু ভয়াবহতার মধ্যে হস্তক্ষেপ করতে হয় উচ্চ আদালতকেও। সরকারি হিসাবেই বলা হয়েছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৩৩ জনের।
গত জানুয়ারি থেকেই মশক নিধন কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয়। জোরালোভাবে ওষুধ না ছিটানোর ফলে ধামসোনা ইউনিয়ন জুড়েই মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। আর চলতি মার্চে এসে সেই উপদ্রব এখন আতঙ্কে রূপ নিয়েছে। ফলে এলাকা বাসী দিন পার করছেন। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সাভার উপজেলার সড়ক, খাল, জলাধার থেকে শুরু করে বাসাবাড়িতে মশার যন্ত্রণায় বিরক্ত এলাকাবাসি । সমস্যা সমাধানে একাধিক আশ্বাস ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ধামসোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ।
ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানে নানা ধরনের উদ্যোগ ও ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেয় ধামসোনা ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ধামসোনা ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার হারুন-আর রশিদ এলাকা ভিত্তিক মশক নিধন কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি পরিচালনা করা হয় বিশেষ অভিযান। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধ্বংস করা হয় মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল। এসময় ডেঙ্গু উপদ্রব অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
আশুলিয়ায় শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা মনু মাতবরের মতে মশা নিধনে কে আরও যুগোপযোগী হতে হবে। আমাদেরবাংলাদেশ.কমকে তিনি বলেন, ‘স্বনির্ভর ধামসোনা ইউনিয়ন এলাকায় খাল আছে, সেখানে মশা হয়। খাল বছরে একবার পরিষ্কার করা হয়। এটি কোনো কাজে আসে না। এই একটা খালের জন্য এই পুরো এলাকার মানুষ সারা বছর ভোগান্তিতে থাকে। এছাড়া যেখানে খাল নাই, সেখানেও মশা। আসলে মশা মারার পদ্ধতি হয়ত ঠিক নেই। আমার মতে, এবিষয়টা নিয়ে আরও একটু ভাবা দরকার।’
একই মত ব্যাংক কর্মকর্তা মো: সালামের, আমাদেরবাংলাদেশ.কমকে তিনি বলেন, ‘রাতে ঘুমাতে গেলে মশার কয়েল বা এ্যারোসল ব্যবহার করতেই হচ্ছে। তার পরও মশা যায় না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খাল ও জলাধার ছাড়াও এলাকার বস্তি, রাস্তার পাশের ময়লার ভাগাড়, ঝোপঝাড়, টায়ারের দোকান, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা মোটর যান মশা জন্মানোর উপযুক্ত স্থান। এছাড়া ঢালাই মেশিন, রাস্তার পাশে পরে থাকা পলিথিন, কর্কসীট, বিভিন্ন মার্কেটের পরিত্যাক্ত ছাদ, দুই বাড়ির মাঝের পেসেজে বৃষ্টির পানি ও ভবনের টাংকীর পানি জমে সেখানে মশা জন্মাচ্ছে।
নির্মানাধীন ভবনে ঠিকাদার ও বাড়ি মালিকদের অসচেতনায় সেখানে জন্ম নিচ্ছে এডিস ও কিউলেক্স উভয় ধরণের মশা। এসব মশা নিধনে ধামসোনা ইউনিয়নে কত কার্যকারী পদক্ষেপ নিচ্ছে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।
ধামসোনা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার হারুন আর রশিদের মতে, মশক প্রজনন সক্ষম স্থান ধ্বংসে নির্মাধীন ভবন মালিক ও ব্যবসায়িদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো সাড়া দিচ্ছেন না।
তিনি আরোও বলেন,মশা নিধনে আমরা কাজ করছি। মশার প্রজনন স্থল ধ্বংসে কাজ করছি, টায়ারের দোকান, নির্মানাধীন ভবনগুলোকে আমরা নক করছি। কিন্তু সাড়া পাচ্ছি না। স্বনির্ভর ধামসোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের। নির্দেশনা অনুযায়ী, আমরা যদি তাদের থেকে সাড়া না পাই, তাহলে জনস্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব।’
এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ, পালাশ বাড়ি, বিভিন্ন এলাকার সড়কের পাশে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এসব পানিতে জন্ম নিয়েছে বিভিন্ন ধরণের মশা। বাইপাইল বগাবাড়ি সৃষ্টি স্কুলের সামনের রাস্তা, টাঙ্গাইল রেসিডেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের রাস্তার দুপাশ এরমধ্যে অন্যতম।
সুমন নামের এক পথচারী আমাদেরবাংলাদেশ. কমকে বলেন, ‘রাস্তার পাশে মশা জন্মাচ্ছে। সেটা কেউ দেখে না। মশার উপদ্রব কতটা বেড়েছে পাবলিক বাসে উঠলে বোঝা যায়। এতো মানুষের মধ্যেও বাসে মশা কামড়াচ্ছে।
ধামসোনা ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার হারুন আর রশিদ বলেন স্বনির্ভর ধামসোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের নির্দেশনায় আমরা প্রতিরোধের কাজ করে যাচ্ছি। আশুলিয়ায় মশার ক্ষেত্রের তুলনায় তাদের জনবল ও সক্ষমতা অপ্রতুল। মশক নিধন শূন্যের কোঠায় না নেয়া গেলেও, সকলের সহযোগিতায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা সম্ভব ।
আমাদেরবাংলাদেশ.কমকে তিনি বলেন,ধামসোনা ইউনিয়নে যে পরিমাণ মশার ক্ষেত্র, ওষুধ দিয়ে তা শূন্যের কোঠায় নেয়া সম্ভব না। নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। ক্রাশ প্রোগ্রাম হচ্ছে, এটা চলমান কার্যক্রম। মশাকে আমরা একটা লেভেলে রাখার চেষ্টা করব। ধামসোনা ইউনিয়নে মানুষ এবং এলাকার তুলনায় আমাদের সক্ষমতা অপ্রতুল।’
তিনি আরও বলেন, ‘বারবার আমরা একটা কথা বলছি, ধামসোনা ইউনিয়ন বাসিকে সম্পৃক্ত হতে হবে। নিজের বাড়ি-অফিস-ব্যবসা প্রতিষ্ঠাননের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাটা যদি তারা ঠিক রাখে, তাহলে সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম