নিজস্ব সংবাদদাতা।। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়েও লাশ দাফনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন সাভারের একটি পরিবার। এলাকাবাসীর করোনা সন্দেহকে ভিত্তি করে দাফন করা সম্ভব হয়নি ক্যান্সারে মৃত নুরন্নাহার বেগমকে (৬৫)।
ওই পরিবারের দাবি ক্যান্সারে আক্রান্ত তাদের আত্নীয় বরিশালে স্বামী সাথে বাস করতো। তার স্বামী পেশায় একজন চিকিৎসক। কয়েকদিন আগে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসেন।এরপর বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তারা লাশ দাফন ও কবর দেওয়ার অসম্মতি জানান। লাশ নিতে অসম্মতি জানান অ্যাম্বুলেন্সও। পরিবারের সদস্যকে হারিয়ে ভেঙ্গে পড়েন তার বোন সেতারা বেগম।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় পরিবারটি আশ্রয় সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) এ এফএম সায়েদের নিকট। ঘটনার বিস্তারিত শুনে রোগী করোনায় মৃত্যু হয়েছে কিনা জানতে যোগাযোগ করেন সাভার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদার কাছে। সেখানে জানতে পারেন ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে শ্বাসকষ্টে।
রোগীর করোনায় মৃত্যু হয়নি এমন খবরের পরই ওসি এ এফএ সায়েদে সাভার মডেল থানায় কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) লোকমান হোসেনকে নির্দেশ দেন যেন পূর্নাঙ্গ ইসলামিক পদ্ধতিতে ওই নারীকে দাফন কার হয়।

প্রয়োজনীয় পুলিশ সদস্য নিয়ে ওই নারীর জামসিং কলোনিতে ছুটে যান পুলিশ সদস্যরা। এলাকাবাসীকে বোঝানোর চেষ্টা চালালেও এক পর্যায়ে ব্যর্থ হয় পুলিশ সদস্যেরা। কোনক্রমেই স্বানীয়রা নারী দাফন করবে না এমন বাধা উপেক্ষা করে ওসির নির্দেশে এসআই লোকমানসহ আর কয়েকজন পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে শুরু হয় জানাজার আনুষ্ঠানিকতা।
এরপর পুলিশের সাথে যোগ দেন স্থানীয় কাউন্সিলর মিনহাজ উদ্দিন মোল্লা। এভাবে দু- একজন লোক আর পরিবারের সদস্যরা যোগ দিলেও ওই মহল্লার অন্য কেউ সামিল হননি ওই জানাজায়। এরপর বিকেলে দাফন করা হয় ওই নারীকে।
সাভার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লোকমান হোসেন জানান, “ওসির নির্দেশে প্রয়োজনীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সকল ধরনের বাধাকে উপেক্ষা করে ওসির নির্দেশে আমরা নারীর জানাজা কার্যক্রম সম্পন্ন করি”।
মৃত নূরন্নাহারের ভাগ্নি জাাতা শফিকুল ইসলাম জানান, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সাভার থানার ওসির এমন ঘটনায় আমরা কৃতজ্ঞ। থানার ওসির যদি এ ধরনের উদ্যোগ না নিতো তবে হয়তো লাশে পচন ধরে যেত।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফএম সায়েদ জানান,“ খবর পেয়ে মৃত নারী করোনা আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হয়ে এরপর থানার পুলিশ সদস্যদেরকে নির্দেশ দেই যেন সঠিকভাবে ওই নারীর জানাজা কার্যক্রম সম্পন্ন করেন তারা। কেউ এগিয়ে না এলেও তিনি এগিয়ে এসেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমরা সকলেই যদি ভয়ে পিছিয়ে পড়ি তাহলে এগিয়ে আসবে কে”।

উল্লেখ্য, সাভার মডেল থানায় যোগদানের পর থেকেই জনমানবের সেবায় হাত বাড়িয়েছেন সাভার মডেল থানার ওসি। নিজেকে দিয়েছেন জনতার মাঝে। সাভারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতির বিশাল আবদান রয়েছে তার।বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় তার পদক্ষেপ জোড়ালো। সাধারন লোকের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে নিজ উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি খাদ্য-সামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন তিনি। ঘোষণা দিয়েছেন কারো খাবারের প্রয়োজন হলে ফোন কল পেলে নিজেই গিয়ে খাদ্যের ব্যবস্থা করেবেন তিনি।তার কর্মকান্ড ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। কুড়িয়েছেন প্রশংসাও। পরবর্তী দিনগুলোতেও অসহায়দের পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম