নোবিপ্রবি সংবাদদাতা।। "আইলো আইলো আইলো রে,রঙে ভরা বৈশাখ আমার আইলো রে।"এই দিনটির মাধ্যমে শুরু হয় নতুন বাংলা সাল,নতুন বাংলা পঞ্জিকাবর্ষ ।বাঙালি জাতির কাছে দিনটি আনন্দের ,উৎসবের দিন।এই দিন আনন্দে মেতে উঠে সকলে।দিনটি ঘিরে থাকে নানা আয়োজন।এই দিনের বিশেষ আয়োজন থাকে পান্তা -ইলিশ খাওয়া।
দিনটি ঘিরে প্রতিবারই নানা আয়োজন করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। এই আয়োজনের সামিল হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক সকলে।কিন্তু এইবার করোনা মহামারী তে ক্যাম্পাস বন্ধ,সকলে ফিরে গেছেন নিজ বাড়িতে, বর্ষবরণ ঘিরে নেই কোনো আমেজ,নেই কোনো ব্যস্ততা।
বর্ষবরণ ঘিরে প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা মেতে উঠে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজনে।রঙতুলির আঁচড়ে শিক্ষার্থীরা রাঙিয়ে তোলে এই আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করে তারা।চলে বিভিন্ন প্রকার মুখোশ, ব্যানার-ফেস্টুন বানানোর, আলপনা আকার কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও সামাজিক সংগঠন থেকে নানা আয়োজন। প্রতিটি বিভাগের থাকে আলাদা আলাদা স্টল।স্টল বানানো, স্টল সাজানো সহ নানা আয়োজনে ব্যস্ত সময় কাটে তাদের।এবার সেই মঙ্গল শোভাযাত্রার কোনো আয়োজন নেই,নেই মুখোশ, ব্যানার-ফেস্টুন বানানো,আলপনা আকার কাজ,নেই শিক্ষার্থীদের আনাগোনা,নেই কোনো আমেজ। স্টল বানানো, স্টল সাজানোর কোনো আয়োজন নেই,নেই কারো ব্যস্ততা।
বর্ষবরণ ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলের থাকে ভিন্ন সাজ।শাড়ি, পাঞ্জাবি কিংবা বাঙালি পোশাক পড়ে পান্তা-ইলিশ খাওয়া,ছবি তোলা,আড্ডা দেওয়া, মঙ্গলশোভাযাত্রার র্যালিতে অংশগ্রহণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে দিনটি কাটে সকলে।এবার সেই ভিন্ন সাজের কোনো ব্যস্ততা নেই,নেই কোনো মঙ্গলশোভাযাত্রার র্যালি,নেই পান্তা-ইলিশ খাওয়ার প্রতিযোগিতা, নেই ছবি তোলার ব্যস্ততা।
করোনা মহামারিতে বর্ষবরণ ঘিরে আনন্দে মেতে উঠতে পারলো না কেউ,প্রিয়জনের সাথে ঘুরতে যাওয়া, ছবি তোলা,পান্তা-ইলিশ খাওয়া হলো না।বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ঘুরতে যাওয়া,ছবি তোলা,পান্তা-ইলিশ খাওয়া হলো না।অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ১ম বর্ষবরণ উদযাপন হলো না, আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের শেষ বর্ষবরণ হলো না,আবার মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের ও শেষ বর্ষবরণ উদযাপন করা হলো না।
অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিথিলা চৌধুরী বলেন,"আমার কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ষবরণের মূল আকর্ষন হলো বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট থেকে দেওয়া স্টলগুলো।এসব স্টল ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনগুলো যেমন ফটোগ্রাফী ক্লাব কিংবা সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন নান্দনিক সামাজিক কর্মকান্ড,আলোকচিত্র প্রদর্শন কর্মসূচি গ্রহন করে এই বর্ষবরনকে কেন্দ্র করে। বর্ষবরণের এ দিনে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্যম আর বাঙ্গালীয়ানাকে শতভাগ পরিচয় করিয়ে দেওয়া কিংবা ফুটিয়ে তোলার এক রকম হিড়িক পড়ে যায়, হোক সেটা বাঙ্গালি ঐতিহ্য শাড়ি-পান্জাবি পরিধানের মাধ্যমে, আলপনায় বিশ্ববিদ্যালয়কে রাঙ্গানোর মধ্য দিয়ে।এবারের বর্ষবরণে তেমন কোনো আয়োজন নেই করোনা পরিস্থিতির জন্য।তবে এবারের বর্ষবরণে সকলের নিকট আবেদন থাকবে যার যতটুকু সামর্থ্য আছে দেশের অসহায় মানুষগলোকে সাহায্য করুন।দেশকে বাঁচান। দেশ বাঁচলে সংস্কৃতি বেঁচে থাকবে, আর সংস্কৃতি আমাদের অস্তিত্ব প্রকাশ করবে বর্হিবিশ্বে।বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফান্ড যারা এই দিনে অর্থ দিয়ে এসব অনুষ্ঠান সম্পাদন করতেন অতীতে তাঁদের নিকট আকুল প্রার্থনা এবারের বাজেট টি অসহায় মানুষদের জন্য উপহার হিসেবে দান করুন।"
অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসমা আহসান বলেন,নববর্ষের দিন ক্যাম্পাস নতুন এক সাজে সজ্জিত হয়। নতুন বাংলা বছরের শুরুটা হয় মঙ্গলশোভাযাত্রার মাধ্যমে।সবাই শাড়ী পাঞ্জাবি পড়ে নিজেদের সাজানোর পাশাপাশি ক্যাম্পাসকে ও সাজিয়ে তোলে বিভিন্ন ধরনের স্টল দিয়ে।সারাদিন সবারই খুব ব্যস্ত ও আনন্দের দিন কাটে। কিন্তু এবার করোনার কারণে আমরা গৃহ বন্দি তাই এবার ক্যাম্পাসে বষর্বরণ সম্ভব হচ্ছে না। সবাই আমরা ঘরে থাকব সুস্থ থাকব এবং নতুনভাবে নতুন বছরকে স্বাগতম জানাবো।"
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন দত্ত বলেন,বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে স্বপ্নের জায়গা।আমরা সেই স্বপ্নের মঞ্চ থেকে ফিরে যাওয়ার সময় যে'কটা জিনিস আমাদের নিউরনে গেঁথে নিয়ে যাব তার মধ্যে একটি বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।ক্যাম্পাস খোলা থাকলে আমরা এই অনুষ্ঠানে ভার্সিটি থেকে করা র্যালিতে যায়,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদান করি,অনুষ্ঠান উপভোগ করি।এছাড়া প্রতিটি বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীরা স্টল করে,স্টলে থাকে বিভিন্ন ধরনের পিঠা,জুস,হাতের তৈরি জিনিস। স্টলে ছাত্র -শিক্ষকের মিলনের একটা সুযোগ থাকে।কিন্তু এইবারের এই পরিস্থিতিতে আমরা ক্যাম্পাসে থাকতে পারছি না,অবশ্যই আমরা ক্যাম্পাস এবং ক্যাম্পাসের এই দিনের অভাববোধ করছি ভীষনভাবে।কিন্তু আশা করছি এই মুহুর্তে আমরা বাড়িতে থেকে নিজ নিজ পরিবারের সাথে এইবারের বাংলা নববর্ষ কাটিয়ে পৃথিবীর সুস্থ সময়ে প্রত্যেকে সুস্থ থেকে ফিরবো।
ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জামান মিয়া বলেন, নববর্ষে ক্যাম্পাস নতুন রূপে,আয়োজন করা হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের।এইবার ভেবেছিলাম বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বেলুন ওয়ালা সেঝে বেলুন বিক্রি করবো কিন্তু কিছুই হলো না।ভেবেছিলাম সিনিয়র হয়েছি, জুনিয়রদের সাথে একত্রিত হয়ে সিরিয়রদের সাথে সমন্বয় করে এইবারের বর্ষবরণটাকে আমার শিক্ষা জীবনের জন্য স্বরণী করে রাখবো। কিন্তু কিছুই হলো না।তারপরে আল্লাহর কাছে দোয়া করি, দেশের এই দুর্দশা যেনো পুরোনো বছরের সাথে শেষ হয়। নতুন বছরের নতুন স্বপ্নের আগমনে যেনো আমরা আবার ক্যাম্পাস জীবন শুরু করতে পারি, এটাই আমার একান্ত প্রত্যাশা।"
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ রিজুয়ান ফাহিম বলেন,পহেলা বৈশাখ বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে ক্যাম্পাসে উৎসব-মুখর পরিবেশ, আলপনা উৎসব, রং খেলা, বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়-বাহক বিভিন্ন স্টল, পিঠাপুলির উৎসব, লোক সংগিতের গানের আসর। মহামারী করোনার জন্য এবারের পহেলা বৈশাখ পালন হবে না বলে কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন হয়েছি।কিন্তু মহামারীর এ সময় এই উৎসব কিংবা গন-জমায়েত না হাওয়াই ভালো। উৎসব তো আমাদের জন্যই, তা প্রতিবছর আসবে। তাই উৎসবে অতি উৎসাহী না হয়ে ঘরে নিরাপদে থাকাই দেশ ও দশের জন্য ভালো।
প্রাণঘাতী করোনায় ব্যস্ত ক্যাম্পাস আজ নীরব।বর্ষবরণের কোনো আয়োজন নেই,নেই কোনো আমেজ।সবাই আজ গৃহবন্দী। অপেক্ষার প্রহর গুনছেন সকলে।কবে আবার প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসবে,কবে ক্যাম্পাসের প্রিয় মানুষদের সাথে আবার দেখা হবে এই নিয়ে অবসর সময় কাটছে তাদের।সবাই সুস্থভাবে ফিরে আসুক ক্যাম্পাসে এটাই প্রত্যাশা সকলের।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম