শেরপুর সংবাদদাতা।। শেরপুরের নকলায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় অসহায় মানুষের জন্য ১০ কেজি দরের মাসিক ৩০ কেজি চাউল আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
শেরপুরের নকলা উপজেলার ৭নং টালকী ইউনিয়ন আওমীলীগের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন আকন্দের বিরুদ্ধে চাউল আত্মসাতের ব্যাপারে গত ১৫ এপ্রিল অত্র ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন কার্ডধারী নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ওই অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের জন্য নকলা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা লুৎফর রহমানকে ঘটনা তদন্তের জন্য তাৎক্ষনিক ৭নং টালকী ইউনিয়নে পাঠান।
ওইসব অসহায় মানুষের চাউল আত্মসাতের ব্যাপারে নকলা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন তদন্তের স্বার্থে এখনই কোন কিছু বলা যাবে না। অভিযোগ তদন্তের সময় দেখা যায় উক্ত ইউনিয়নে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ও.এম.এস এর কার্ড বাড়ী বাড়ী গিয়ে বিতরণ করছেন বেলায়েত হোসেন আকন্দ। অভিযোগকারী মোছাঃ গোল নাহার, কার্ড নং- ১৩৩ বলেন গত ১৫/০৪/২০২০ইং তারিখে আমার নামের চাউল উত্তোলণ করা হলে আমি কোন চাউল পাইনাই এবং বেলায়েত হোসেন আমার বাড়ীতে এসে জোর পূর্বক কার্ডে টিপসহি নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবং আবার চাউল আনতে গেলে আমাকে ঘাড় ধরে বাজার থেকে বের করে দিবে বলে হুমকি দেয়। আব্দুল ছাত্তার, কার্ড নং- ১২৭ অভিযোগ করেন এখন পর্যন্ত আমি কোন কার্ডও পাইনাই চাউলও পাইনাই। মোঃ এরশাদ আলী নামে কার্ড নং- ৩৮ অভিযোগ করেন দুইবার আমার কার্ডে চাউল উত্তোলণ করা হয়েছে যা আমি কিছুই জানি না এবং আমি আজকে কার্ড পেয়েছি। মইরুমি কাড নং- ৯১৪ অভিযোগ করেন আমার নামে গত মাসে চাউল উত্তোলণ করা হয়েছে আমি নিজেই জানি না। আলম মিয়া নামে একজন কার্ড নং- ১৫ অভিযোগ করেন আজ পর্যন্ত আমি কোন চাউল পাই নাই।
ওই ইউনিয়নের খাদ্য বান্ধব ও.এম.এস ডিলার রামেরকান্দি বাজারের মোঃ ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমার চাচা বেলায়েত হোসেন আকন্দ আমার নামে চাইলের ডিলারশীপ কইরা দিছে আমি নিজেই জানি না। প্রতি মাসে আমাকে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা চাউল বিতরণের পরে মাসিক খরচ হিসাবে দেয়। ডিলারশীপের ব্যাপারে বেলায়েত হোসেন আকন্দ বলেন আমার ভাতিজার নামে ডিলারশীপ কিন্তু এটা আমি নিজেই পরিচালনা করি, আমার ভাতিজা ফরিদ ওই ব্যাপারে কিছু জানে না। আমাকে রাজনৈতিক ভাবে হেয় করার জন্য একটি মহল ওইসব অভিযোগ করেছে।
৭নং টালকী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান বলেন, অনেকে কার্ড পেয়েছে কিন্তু চাউল পায়নি বলে আমার অভিযোগ করেছে। অভিযোগ আমি ক্ষতিয়ে দেখছি বলে ভুক্তভোগীদের আশ্বস্ত করেছে। এসব ভুক্তভোগীদের লিখিত ভাবে অভিযোগের বিষয়ে নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমান বলেন তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
(মইনুল/রিফাত/আমাদেরবাংলাদেশ)
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম