এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর) থেকে।।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা যশোর-৬ কেশবপুর সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের পক্ষে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কর্মহীন কেশবপুর সদর ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে নগদ ১ লাখ টাকা প্রদান করেন।
বুধবার সকালে পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে কেশবপুর সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সদর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের জন্য পৌর মেয়র রফিকুল ইসলামের হাতে ব্যক্তিগতভাবে ১ লাখ টাকা হস্তান্তর করেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা। এসময় তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম,
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমীন, সহ-সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এইচ এম আমির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা, ও পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম ইসলামের জন্য পিপিই এবং মাস্কও হস্তান্তর করেন। উক্ত ১ লাখ টাকা, পিপিই ও মাস্ক হস্তান্তর কালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গৌতম রায়, দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান মফিজ, সদস্য ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহŸায়ক শাহাদাৎ হোসেন,
কেশবপুর সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডাঃ মনিমোহন, সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন, আওয়ামী লীগনেতা মিজানুর রহমান বাবু, ইউপি সদস্য নিমাই চন্দ্র দাস, ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম, ইউপি সদস্য মৃণাল কান্তি দাস, ইউপি সদস্য ওলিয়ার রহমান, ইউপি সদস্য রেহেনা ফিরোজ, সাবেক ইউপি সদস্য জয়দেব দাস, আওয়ামী লীগনেতা দীপক মুখার্জী, শেখর রঞ্জন দাস,
মনিরুজ্জান মনি, আলী হোসেন, সাজ্জাত হোসেন, আব্দুর রহিম, নজরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, আক্তার হোসেন-সহ কেশবপুর সদর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম কেশবপুর সদর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের হাতে উক্ত ১ লাখ টাকা হস্তান্তর করেন।
কেশবপুরে আরো দুজনের দেহ করেনা
সনাক্ত উপজেলায় মোট আক্রান্ত ১০
এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর) থেকে।।
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় আরো ২জনের দেহে করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০ জনে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ আলমগীর হোসেন জানান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম রিপোর্টে কেশবপুরের ২ জন পজেটিভ রয়েছে।
তাদের মধ্যে একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারি স্বাস্থ্য কর্মী ও মজিদপুর ইউনিয়নের বায়শা গ্রামের একজন রয়েছেন।
আক্রান্তদের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাদের বাসা ও বাড়ি প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন করা হয়েছে।
কেশবপুরে করোনাভাইরাস সনাক্ত ১০ জনের ৭জন কেশবপুর হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারী। ১জন প্রাইভেট ক্লিনিকের স্টাফ। এ সংবাদ এলাকায় প্রচারের সাথে সাথে কেশবপুর হাসপাতাল জনশুন্য হয়ে পড়েছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ হাসপাতালে প্রবেশ করছেনা।
সকাল থেকে কেশবপুরে সেনা টহল চলেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে জনসাধারণকে ঘরে থাকার জন্য মাইকিং অব্যাহত ছিল।
৩০ এপ্রিল সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে
সাদেকের ৮৬ তম জন্মবার্ষিকী
এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর) থেকে।।
৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেক এর ৮৬তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৪ সালের ৩০ এপ্রিল কেশবপুরের বড়েঙ্গা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে যেসব ব্যক্তিবর্গ তাঁর প্রশাসনকে সমুজ্জ্বল করেছিলেন এবং যথাযথ দায়িত্ব পালন কালে রাষ্ট্রকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পেছনে যাঁদের অসামান্য অবদান ছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এ এস এইচ কে সাদেক।
কেশবপুরের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রানপুরুষ, আধুনিক কেশবপুরের রূপকার, সাবেক সফল শিক্ষামন্ত্রী আবু শারাফ হিজবুল কাদের সাদেক (এ. এস, এইচ, কে সাদেক) ছিলেন সাবেক সচিব, দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও সফল শিক্ষামন্ত্রী। তিনি ১৯৫৬ সালে পাকিস্থান সিভিল সার্ভিসে একজন সিএসপি অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ১৯৭০-৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাফিল ফাউন্ডেশন থেকে ফেলোশিপ অর্জন করেন।
তাঁর কর্মদক্ষতা ও বিচক্ষণতার কারণে নীলফামারী ও নারায়ণগঞ্জ মহকুমা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান এবং পরবর্তীতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পূর্ব পাকিস্থান সরকারের একজন সচিব হিসেবে কাজ করেছেন।
এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধে ছিল এ এস এইচ কে সাদেক। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহরের এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত এ এস এইচ কে সাদেকের সরকারি বাসভবন ১নং টেনামেন্ট হাউজ ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম ঘাঁটি।
মুক্তিযোদ্ধারা প্রায়ই তাঁদের অস্ত্র গোলাবারুদ এই সরকারি বাসভবনে রাখতেন। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী প্রায়ত সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক উভয়েই মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় প্রদানসহ সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করতেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মরহুম সাদেক স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহম্মদের একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করেছেন এবং ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির প্রধান সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী বেগম ইসমাত আরা যশোর-৬ (কেশবপুর) নির্বাচনী এলাকা থেকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। এরপর ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন। গত ২১ জানুয়ারী তিনিও না ফেরার দেশে চলে গেছেন।
এ এস এইচ কে সাদেক তাঁর বিচিত্র অভিজ্ঞতাময় জীবনে জনপ্রশাসনের জাতীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইউএনআইডি-এর প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞ এবং আঞ্চলিক শিল্প উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর ২৫ মার্চ ১৯৮৮ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচত হন।
পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর দলীয় মনোনয়নে তাঁকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে নিয়োজিত করেছিলেন। তিনি শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর শিক্ষাক্ষেত্রে এক আমূল পরিবর্তন সাধন করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাপদ্ধতির সাথে সমন্বয় রেখে দেশের সকল ফলাফলে ‘জিপিএ’ সিস্টেম চালু করার পাশাপাশি সৃজনশীল পদ্ধতি প্রবর্তনসহ শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল আকাশ ছোঁয়া।
তিনি ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রূপে স্বীকৃতি প্রদান এবং সুন্দরবনকে ইউনেস্কোর অধীনে অন্তর্ভুক্ত করতে সফল হয়েছিলেন। যার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ২০১০ সালে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। ব্যক্তি হিসেবে তিনি ছিলেন অমায়িক, নম্র, ভদ্র এবং কখনো পরনিন্দা করতেন না। কখনো অন্যের গালমন্দ করে নিজেকে হাইলাইট করেননি।
তিনি কাজে বিশ্বাসী ছিলেন, দেশ ও জাতির উন্নয়নে বিশ্বাসী ছিলেন। নিজের এলাকায় দলকে সুসংগঠিত করার জন্য সবসময় সোচ্চার থাকতেন। দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্নীতিমুক্ত রাখতে তিনি সবসময় খুব কঠোর ছিলেন। অবৈধ কোনো নিয়মনীতি তিনি কখনো মেনে নেননি বা প্রশ্রয় দেননি। তাই কিছু লোভী বা স্বার্থান্বেষী মানুষ তাঁর প্রতি ছিল বিদ্বেষ মনোভাবাপন্ন।
তবে পরবর্তীতে তিনি তা বুঝতে পেরে তাদেরকে এড়িয়ে চলেছেন। আসলে তাঁর মধ্যে ছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শচেতনা ও দৃঢ় মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিত্ব যেটা একজন আদর্শ নেতার মধ্যে লুকিয়ে থাকা উচ্চমানের বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য হয়। ২০০১ সালে যখন বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসীন, তখনো তিনি যশোর-৬ কেশবপুর থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সেসময় যেখানে সারাদেশে আওয়ামী লীগের পরাজয় হলেও তিনি এমপি হয়েছিলেন কারণ তাঁর কাজ-কর্ম ও উন্নয়ন ছিল কেশবপুরবাসীর কাছে অভূতপূর্ব। পরবর্তীতে ১/১১ ধরপাকড়ের সময় তাঁর সাবেক কর্মকান্ডের হিসাব-নিকাশে শিক্ষাক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতি খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং তাঁর গায়ে কোনো কলঙ্ক লেপন করতে পারেনি কেউ; কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ২০০৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর এ মহান নেতার আকস্মিক মৃত্যুর পর কেশবপুরবাসী বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
কেশবপুরে কৃষকদের আট দফা দাবিতে
সম্বলিত স্মারাকলিপি প্রদান
এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর) থেকে।।
বাংলাদেশ কৃষক সমিতি কেশবপুর শাখার উদ্যোগে বর্তমানে ধান কটার মৌসুমে কৃষকদের ৮ দফা দাবি উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী বরাবার স্মরকলিপি দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কেশবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে নেতৃবৃন্দ এ স্মরকলিপি দেন।
স্মরকলিপি সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের ধান কাটা,মাড়াই করার জন্যে হার্ভেস্টার মেশিন দিয়ে সরকারিভাবে সহয়তা করতে হবে। চলতি বোরো মৌসুমে ২০ লক্ষ টন ধান এক হাজার ৪০ টাকা দরে সরাসরি কৃষকেদের কাছ থেকে এবং এবং ১০ লক্ষ টান চাল চাতালে মাধ্যমে কিনতে হবে।
দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র খুলে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে হবে। ধান কেনার ক্ষেত্রে কৃষককে কোন প্রকার হয়রানি করা চলবে না। করোনার প্রভার,অকাল বন্যা,প্রাকৃতিক দুর্যোগ জনিত কারণে কৃষকরে সরাসরি ১০ হাজার টাকা দিতে হবে।
সকল কৃষককে দুই শতাংশ হারে সুদে ঋণ দিতে হবে। ধান কাটা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, থাকা,খাওয়া বন্দবস্তো, নিরাপদে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেত হবে। ধান কাটা শ্রমিকদের পরিবারকে এক মাসের ত্রাণ সহায়তা দিতে হবে। ত্রাণÑসাহায্য বিতরণে দুর্নীতি ,স্বজনপ্রীতি এবং দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে।
খেত মজুরদের মুজুরী নির্ধারণ করে দিতে হবে। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন কৃষক সমিতি যশোর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান,কৃষক সমিতি শিকারপুর শাখার সভাপতি কৃষক পীর আলী সরদার,মহিতোষ মন্ডল, আনন্দ চৌধুরী প্রমুখ।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম