রিপন হোসেন সাজ,মণিরামপুর যশোর প্রতিনিধি।। মণিরামপুরে বানের (মাচান) বোটাই বোটাই ঝুলছে সোনালী স্বপ্ন গোল্ডেন ক্রাউন ‘মাল্টা তরমুজ’। খলিল নামে একমাত্র কৃষক যিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে এ জাতের তরমুজের বীজ সংগ্রহ করে এই অঞ্চলে প্রথম আবাদ শুরু করেছেন। তার চাষকৃত ২ বিঘা জমিতে এ জাতের তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন করোনার প্রাদূর্ভাবে ঘোষিত লকডাউন উঠে গিয়ে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভাল বাজার দর পেয়ে লাভের আশা দেখছেন তিনি।
জানা গেছে, মণিরামপুর পৌর এলাকার তাহেরপুর গ্রামের সৈয়দ আহম্মেদের ছেলে খলিল। বরাবরই খলিল বাজারে চাহিদা সম্পন্ন নতুন জাতের ফসল ও সবজি চাষ করেন। নতুন জাতের ফল ও সবজি চাষ করেন বলেই উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বরাবরই সহযোগিতা পেয়ে থাকেন তিনি। তার লজিকৃত ২০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি রয়েছে।
কিন্তু করোনার কারনে সাড়ে ৬ বিঘা জমিতে চাষকৃত গ্রীস্মকালীন লাল বাঁধা কপি পাইকার ক্রেতা ও পরিবহন সংকটে প্রায় দেড় লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার পরও মাল্টা তরমুজে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে স্বপ্ন দেখছেন তিনি। সরেজমিন তার ক্ষেত্রে গেলে চোখে পড়ে সবুজ গাছের বোটাই বোটাই বাশের চটা আর নেট (প্লাস্টিকের জাল)-সুতায় তৈরী বানের নিচে ঝুলছে সোনালী রঙের মাল্টা তরমুজ। ফলন ভাল হওয়ায় খলিলের চোখ মুখে আনন্দের ছোয়া ফুঁটে উঠেছে।
কথা বলতেই মিচকি হাসি দিয়ে খলিল জানায়, তিনি সব সময় আলাদা কিছু চাষ করেন। এতে বাজারে ভাল দামের পাশাপাশি চাহিদাও থাকে বেশ। সপ্তাহ খানেক পরই তরমুজ বাজারে উঠবে। এতে প্রতিটির দাম ৮০ থেকে ১শ’ টাকা পাবেন বলে তিনি আশা করছেন। এ তরমুজ বাইরে (দেশের বড় শহরে) পাঠাতে পারলে দ্বিগুন দাম পেতেন বলেও তিনি জনান।
খলিল আরো জানায়, চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রতি গ্রাম হাজার টাকা দরে ৬০ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করে ফাল্গুন মাকেরা হয়। বীজ বপনের পর গাছ ৬ ইঞ্চি লম্ব হলে বাশের চটা দিয়ে বান দেয়া হয়। বপনের ২৫/৩০ দিন পর ফুল আসে ও ৫৫/৬০ দিনের মাথায় ফল কাটা শুরু হয়। উপজেলা কৃষি অফিসার হীরক কুমার সরকার বলেন, নতুন জাতের ফল ও সবজি চাষে খলিলকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হয়। সে একজন ভাল ও চমকার চাষী বলে মানুষ জানে।
মণিরামপুরে নানা অজুহাত দেখিয়ে অলিতে-গলিতে মানুষের ভীড় সেনাবাহিনী আসলে মাঠ ফাঁকা
রিপন হোসেন সাজ,মণিরামপুর যশোর প্রতিনিধি।। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে মণিরামপুরে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে অলি-গলিতে প্রতিদিন মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে জন সচেতনতায় জন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে মাঠ ফাঁকা হয়ে গেলেও আবারও ভীড় বাড়ছে।
জানা যায়, পৌর শহরসহ উপজেলার হাট-বাজারে অন্যান্য দিনের ন্যায় গণপরিবহন ছাড়া স্থানীয়ভাবে ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিন চালিত গাড়ীসহ মানুষের ব্যাপক চলাচল লক্ষ্য করা যায়। তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পৌর শহর ও হাট-বাজারে আসছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদেরকে কঠোরভাবে পৌর শহরসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
এসময় জরুরী প্রয়োজন ছাড়া যারা ঘর থেকে এসেছে তাদেরকে যেখান থেকে সেখানে ফিরে যেতে বলা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মুহুর্তের মধ্যে ফাঁকা হতে শুরু করে। এরপর যখন সেনাবাহিনীর ও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন শেষে অন্য এলাকায় গেলে মুহুর্তের মধ্যে পূর্বের অবস্থা বিরাজ করতে লক্ষ্য করা যায়। জানাযায়, চলমান পরিস্থিতিতে ইতিপূর্বে স্থানীয় প্রশাসন ঢিলেঢালাভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনার ব্যাপারে মাইকে প্রচার সীমাবদ্ধ রাখলেও সেনাবাহিনী মাঠে এসে নিরলসভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন অলিতে-গলিতে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হচ্ছে। এসব এলাকায় নানা অজুহাতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসা মানুষের ভীড় দেখা যায়। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে, এক ঔষধ দোকানীসহ কয়েকজন তরকারি ব্যবসায়ী বলেন, সরকারি নির্দেশনার ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে দেখে অমান্যকারীদের তেমন মাথাব্যাথা না থাকলেও সেনাবাহিনী ও পুলিশ আসছে শুনে যে যার মত সটকে পড়ছে।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম