নিজস্ব প্রতিবেদক।। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হলেও এসব মেশিন বন্ধের উদ্দ্যোগ নেই উপজেলা প্রশাসনের। ফলে দিন দিন অবৈধভাবে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। আবার অনেক সময় উপজেলা প্রশাসন এসব অবৈধ মেশিনকে বৈধ বলে দাবীও করে আসছেন।
সরেজমিন গিয়ে দেখাগেছে, উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাস থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে ভাদাই ইউনিয়নের ওমর কাজী মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় ও কমলাবাড়ী ইউনিয়নের চন্ডিমারী নামক স্থানের নদী থেকে অবাধে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদী খননের নামে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রশাসন দাবী করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব অবৈধ মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করতে পারেন। কিন্তু এসব মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করার কোন কাগজ উপজেলা প্রশাসনের নিকট আছে কি না তা তিনি বলতে পারেননি।
সরকারীভাবে এসব মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ হলেও এর ব্যত্যয় ঘটেছে আদিতমারীতে। উপজেলার ৪ থেকে ৫টি স্পটে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রশাসনের লোকজন জেনেও অনেকটা না জানার ভ্যান করে আছেন।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় নদী খননের কাজ চলছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী খননের জন্য স্কেভেটার মেশিন দিয়ে নদী খনন করার কথা থাকলেও এ নিয়মনীতি মানছেন না তারা। তারা অবৈধভাবে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করেই চলেছেন। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে প্রশাসনের লোক অনেকটা অসহায়। তারাও তাদের এ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে সমর্থন দিয়ে আসছেন। আর এ কারণে দিনের পর দিন নদীতে থেকে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে মাঝে মাঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযানও চালানো হচ্ছে। জেল জরিমানাও হচ্ছে কিন্তু তার পরেও থেমে নেই অবৈধভাবে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন। তবে এলাকাবাসী মনে করেন, এসব বালু উত্তোলনের নিদিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। তারা আরো বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জন্য আইন কি আলাদা?
নিয়ম অনুযায়ী স্কেভেটার মেশিন দিয়ে নদী খননের পর নদীর দুপারে বালুগুলো স্তুুপ করে রাখার কথা। কিন্তু মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে কারো পুকুর আবার কারো ব্যবসায়ীক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা লাভবান হচ্ছেন। আর হুমকির মুখে পড়ছেন পাশ্ববর্তী জমির মালিকরা। এসব বিষয় নিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার মিলছে না বলে আদিতমারী সরকারী কলেজের সহকারী অধ্যাপক তাজুল ইসলাম দাবী করেন।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসকের অনুমতি দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী থেকে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করতে পারেন। তিনি আরো বলেন,তবে উত্তোলনকৃত বালু কারো ব্যক্তিস্বার্থে নয়। এসব বালু দিয়ে নদীর দুপার বেঁধে দিতে হবে। তারপরেও তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে দাবী করেন।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম