প্রিন্ট এর তারিখ: September 17, 2026, 9:43 am || প্রকাশের তারিখ: May 11, 2020, 1:37 pm
আজাহার ইসলাম, ইবি।।। বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণে স্থবির জনজীবন। দেশের মানুষ যখন গৃহবন্দী ঠিক তখনই শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটার মৌসুম। এমন পরিস্থিতিতে বেশ বিপাকে পড়েছে কৃষকরা।
এমনি এক ঘটনা ঘটেছে নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নে। করোনা আক্রান্ত পিতৃহীন রওশন আলী। বাবা মারা গেছেন অনেক আগেই। পরিবারের কর্মক্ষম একমাত্র সম্বল সে। পরিবার পরিচালনায় কাজ করেন ঢাকার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে। ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরলে পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর পরেই তাকে নীলফামারীর আইসোলেশন কেন্দ্রে রাখা হয়।
রওশন গত শুক্রবার তার নিজস্ব ফেসবুক টাইমলাইনে তার কয়েক শতক জমির পাকা ধান কেটে দেওযার জন্য একটি স্ট্যাটাস দেন এবং তার পাকা ধান কাটার জন্য এলাকার সহৃয়বান ব্যক্তিদের অনুরোধ করেন।
স্ট্যাটাস দেখে পাশের গ্রামের আমির হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন স্কুল ও কলেজে অধ্যায়নরত কিছু শিক্ষার্থী ধান কেটে দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসেন এবং ধান কেটে রওশনের বাড়ি পৌছে দেয়। ধান কাটায় অংশ নেয় আশরাফুল, লেলিন, নুরুন্নবী, রাসেল, আলমগীর, আহিরুল, মাসুম, আব্দুল কাদের এবং আব্দুর রহিম প্রমুখ।
এ কার্যক্রমে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক এ শিক্ষার্থীরা।
ধান কেটে সহায়তা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বুড়িতিস্তা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘করোনায় সৃষ্ট কৃষক সমস্যায় অনেকে ধান কাটতে পারছেনা। এজন্য সকলকে এগিয়ে আশা দরকার। কৃষক বাঁচলেই বাঁচবে দেশ। আসুন আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়াই।’
এব্যাপারে আমির হোসেন বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক দৃষ্টিকোন থেকেই আমাদের এ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আমি শিক্ষার্থীদের এভাবে পাশে পাবো এটা কল্পনার বাইরে ছিলো।