আল-আমিন,ঝালকাঠি।। ঝালকাঠি ও তার আশেপাশে কত সংখ্যক কুকুর আছে- তার সঠিক সংখ্যাটা জানা না থাকলেও ঝালকাটিতে দুই পৌরসভা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার কুকুর আছে এ জেলায়। করোনা ভাইরাসের মহামারীর এই সময়ে মানুষের পাশাপাশি বিপদে পড়েছে এসব কুকুর।শুধু কুকুর নয় বিড়ালও বিপদে পড়েছে। এই প্রাণীগুলোর বেশিরভাগ অভুক্ত থাকছে। সরকারের নির্দেশে ঝালকাঠি লকডাউন থাকায় সরকারি ও বেসরকারি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও হোটেল-রেস্টুরেন্ট বেশিরভাগ বাসিন্দা ঘরবন্দি।
বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাহিরে যাচ্ছেন না।
ঝালকাঠির অলি-গলিতে থাকা কুকুরগুলো বাসা-বাড়ি এবং হোটেল থেকে ফেলা উচ্ছিষ্ট খেয়ে জীবন ধারণ করত। কিন্তু হোটেলসহ সব বন্ধ থাকায় অভুক্ত থাকছে এসব কুকুর বিড়াল। ফলে অনেকক্ষেত্রে হিংস্র হয়ে উঠছে এসব প্রাণীরা। সদরের পালবাড়ি এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, সকালে কিছু হালকা খাবার কিনে রাস্তা দিয়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিলাম।
বাসার কাছাকাছি যেতেই কয়েকটি কুকুর সামনে এসে ঘেউ ঘেউ ও চেঁচামেচি করতে থাকে। পাশের দোকান থেকে রুটি কিনে কুকুরগুলোকে খেতে দিলে, খাবার দেখে হুমড়ি খেয়ে পড়ে কুকুরগুলো।
ঝালকাঠির দুই পৌরসভার হিসাব মতে, ঝালকাঠিতে রয়েছে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার বেওয়ারিশ কুকুর। পোষা কুকুর রয়েছে প্রায় ৩ হাজারের মতো।
এসব কুকুর হোটেল ছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন স্পটের উন্মুক্ত ময়লা থেকে খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে। তবে জেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার কয়েকজন তরুণ কিছু অভুক্ত কুকুরকে খাবার দিচ্ছে। বিরাট একটি অংশ রয়ে গেছে অভুক্তের তালিকায়। জেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অভুক্ত বেওয়ারিশ কুকুরের দল খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে জেলাতে। পাড়া-মহল্লা, পার্ক-খেলার মাঠ, সড়ক-ফুটপাত সর্বত্র অভুক্ত বেওয়ারিশ কুকুরের আনাগোনা।
যত্রতত্র সময়-অসময়ে ক্ষুধার জ্বালায় কুকুরের হাক ডাক দিন দিন বেড়েই চলছে। ফলে এসব অভুক্ত কুকুর জেলা-নগরবাসির মাঝে এখন বড় চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। ঝালকাঠির অনেক এলাকায় যানবাহন চলাচল না করায় অভুক্ত বেওয়ারিশ কুকুর এখন খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে মূল সড়ক গুলোতে। একই অবস্থা রয়েছে রাস্তায় থাকা বিড়াল গুলো। অভুক্ত দিন রাত পার করছে তারাও। প্রতিনিয়তই খাদ্যের জন্য হিংস্র হয়ে উঠছে ঝালকাঠির কুকুর-বিড়াল।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম