রিপন হোসেন সাজু,মনিরামপুর(যশোর) প্রতিনিধি।। মহামারি করোনা ভাইরাস উপেক্ষা করে যশোরের মনিরামপুরে ঈদবাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। সেই কাকডাকা ভোর থেকে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারের বিপনী বিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড় লেগেই চলেছে।
এক্ষেত্রে মানা হচ্ছেনা কোন প্রকার সামাজিক ও শারিরীক দুরুত্ব। অন্যদিকে পৌরশহর ও বাজারসমুহে যাত্রীবাহী ভ্যান, ইজিবাইক, পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বৃদ্ধির কারনে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের। তবে সামাজিক ও শারিরীক দুরুত্ব বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বেশ তৎপরতা রয়েছে। তার পরও মানুষের মধ্যে বিন্দু মাত্র সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছেন। ফলে করোনা ভাইরাস মোকাবিলা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পৌরশহর এবং উপজেলার রাজগঞ্জ, খেদাপাড়া, চিনাটোলা, নেহালপুর, ঢাকুরিয়া, কুয়াদাসহ বিভিন্ন বাজারের বিপনী বিতানগুলিতে বেচাকেনা জমে উঠেছে। নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তের ভিড়ে দোকানগুলো এখন সরগরম। ঈদ যতই এগিয়ে আসছে ততই ভিড় বাড়ছে। মহামারি করোনা ভাইরাসকে তুচ্ছ মনে করে ক্রেতাদের পদচারনায় কাকাডাকা ভোর থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত চলছে ধুমছে বেচাকেনা। তার ওপর কোন প্রকার সামাজিক বা শারিরীক দুরুত্ব বজায় রাখার তোয়াক্কা করছেননা ত্রেতারা। গাদাগাদি হুড়োহুড়ি করে তারা পছন্দের পণ্যটি কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। কিছু বিপনী বিতানে হ্যান্ডস্যানিটাইজার থাকলেও কাউকে ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।
পৌরশহরের খান গার্মেন্ট, আল-আমীন বস্ত্রালয়, দোলা গার্মেন্ট, চঞ্চল গার্মেন্ট,রিবাত গার্মেন্ট, ভাই ভাই গার্মেন্ট, নিউ শাড়ি প্যালেস, জননী বস্ত্রালয়, শাহআলম বস্ত্রালয়, প্রিয়া গার্মেন্ট, রবি ফ্যাশন, এমএম ক্লথ, শরিফ ক্লথ ষ্টোর সহ বিভিন্ন বিপনী বিতানগুলিতে শনিবার ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে শিশু ও নারী ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে দোকানদারদের রিতিমত বেগ পোহাতে হয়।
তৈরী পোশাক, শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবী, জুতা, প্রসাধনীর পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দোকানেও ছিল উপচেপড়া ভীড়।গৃহবধু রাশিদা খাতুন বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে একনাগাড়ে ঘরে বন্দিজীবন আর ভাল লাগেনা। তাই সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে সন্তানদের নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছি। নাসরিন সুলতানা বলেন, এত নিয়মকানুন মেনে কেনাকাটা করা সম্ভব নয়। খান গার্মেন্টের মালিক মহিউদ্দিন খান জানান, দোকানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার থাকলেও ক্রেতারা তা ব্যবহার করতে অনিহা প্রকাশ করছেন।
এছাড়াও অনেক ক্রেতারা মুখে মাক্স ব্যবহার করতেও অনিহা প্রকাশ করেন।রবি ফ্যাশানের মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, চেষ্টা করছি ক্রেতাদের শারিরীক দুরুত্ব বজায় রাখতে। মনি ফ্যাশানের মালিক ইকবাল হোসেন বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সক্রীয়তায় কোন ধনের অপ্রীতিকর ঘটনা এ পর্যন্ত ঘটেনি। জুতার দোকানের মধ্যে লিবার্টি, সম্রাট, প্রাইম, নাজ, বাটা, পাদুকাভবনে বেচাকেনা চোখে পড়ার মত। তবে অধিকাংশ দোকানে ক্রেতারা সামাজিক ও শারিরীক দুরুত্ব মানছেননা। তার ওপর পৌরশহরে যাত্রীবাহী ভ্যান, ইজিবাইক, পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বৃদ্ধির কারনে শনিবার সকাল থেকেই সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের।
ফলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফীর নেতৃত্বে সেনাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৌরশহরে ঝটিকা অভিযানে নামেন। সামাজিক ও শারিরীক দুরুত্ব না মানায় বেশ কয়েকজন দোকানীকে ভৎর্সনা করা হয়। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একটু দুরে সরে গেলে আবারও সেখানে ভীড় শুরু হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী জানান, সামাজিক ও শারিরীক দুরুত্ব বজায় রাখার জন্য নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে করোনা মোকাবিলায় সামাজিক ও শারিরীক দুরুত্ব বাস্তবায়ন করা দরুহ।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম