তানভীর শেখ।। করোনাভাইরাসের প্রভাবে সারাদেশ কার্যত লকডাউন। আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে জীবন-যাপন করছে মানুষ। লকডাউনে অসহায় ও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শ্রমজীবীরা। সরকারিভাবে দুস্থ, অসহায় মানুষদের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন । বিশ্বে করোনা মহামারি আকার ধারণ করেছে। করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে নিজেকে নিরাপদ রাখার পাশাপাশি যে সমস্যায় সবাইকে পড়তে হচ্ছে তা হচ্ছে খাবারের সমস্যা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে এই খাবারের জোগান দেওয়া অনেক কষ্টকর। আমাদের এই সমাজে অনেক মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবার আছে যারা খাবারের অভাবে থাকলেও লোকলজ্জার কারণে মুখফুটে কাউকে বলতেও পারেন না।
আর এমনটা চিন্তা করেই করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কর্মহীন, দুস্থসহ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন রাজধানীর মুগদা থানাধীন এলাকার এক স্বেচ্ছাসেবক তরুণ মেসবা উদ্দিন ও তার বন্ধুরা। অসহায়দের সাহায্যে তারা খোজখবর নিয়ে বাসাতে পৌছে দিচ্ছেন খাবার। খাবার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে চাল, মশুর ডাল, সয়াবিন তেল, আলু, পেয়াজ, লবন মসলা, মুড়ি, খেজুর ও চিনি। কোন পরিবারের শিশু থাকলে তাদের জন্য শিশু খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন তারা।
ভাটারা থানার এক বাসন্দা জনান, ‘ফেসবুকে ম্যাসেজ করেছিলাম সাহায্যের জন্য যদিও তারা শুধু মুগদা এলাকার জন্যই এই উপহার সামগ্রী বিতরণ করছিলেন কিন্তু মেসবা উদ্দিন তাকে নিরাস করেনি। তাকে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি মশুর ডাল, ১ কেজি পেয়াজ,১ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি আটা, মুড়ি, হলুদ, মরিচ ও লবণ দিয়েছে। এবং দ্বিতীয় ধাপেও ত্রান দিয়েছেন।’
তরুণ স্বেচ্ছাসেবী মেসবা উদ্দিন জানান, ‘আসলে নিজের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই হঠাৎ আচমকা উদ্যোগ নেয়। যদিও বিশাল কিছু করতে পারিনি তবে এই ক্ষুদ্র প্রয়াসে অল্প কিছু মানুষের মাঝে একটু ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেই । আর উদ্যোগ আমি নিলেও আমাকে আমার আম্মা আর্থিকভাবে এবং ডেলিভারিতে আমার টিমে ছিলো, রনি ইসলাম, শাহ পরান, মাহফুজ রুপম এরা আমার এলাকার ছোট ভাই বন্ধু বলতে পারেন। আর বাকি সবাই মানসিক এবং অভাবি লোক খুজে বের করতে সাহায্য করেছে।’
মেসবা উদ্দিন আরও জানান, ‘প্রথম দিন মা ও বাচ্চাসহ বিপদে পড়াদের ১৩ পদের ২৪ কেজির প্যাকেজ দিয়েছি প্রায় ১০০ কেজিরও বেশি। চাল ,পায়জাম ৪৫ টাকা, এক পরিবারকে ৬৫ টাকার রাবেয়া নাজেরশাইল ও দেয়া হয়েছ। যেহেতু আমরা মধ্যবিত্তদের টার্গেট করেছি। এরপর আমাদের কাছে নিম্নবিত্তদের রিকয়েস্ট আসা শুরু করলে আরেকটা প্যাকেজ আটা আর মসলা বাদ দিয়ে দিই, সেখানেও ৯/১০ কেজির আইটেম সংখ্যা ৮টা।’
তরুন স্বেচ্ছাসেবী আরও জানান,‘ ঈদ উপলক্ষেও আমার বন্ধুবান্ধব অনেক হেল্প করেছে ফান্ড কালেকশন করতে এখানেও আমরা প্রায় ৪০টি পরিবারের মাঝে ঈদসামগ্রী উপহার দিচ্ছি, সেখানে রয়েছে মুরগি, পোলাও'র চাল, সেমাই, দুধসহ আরো আনুষাঙ্গিক জিনিস ।ফান্ড ছোট, তাই আগে মুগদায় দিচ্ছি তবে মুগদা বাদেও কামরাঙ্গীর চর, ভাটারা এলাকায়ও কিছু মানুষকে উপহার পৌঁছে দিয়েছি।’
তিনি আরও জানা, সকলকে সাহায্য দেওয়ার আর্থিক সক্ষমতা আমার নেই। মুগদায় এক হাজার মানুষ দিলেও শেষ হবে না। আর যেহেতু মুগদায় আছি মুগদা থানার মানুষেরই দায় ও আবদার বেশি, কিন্তু কাউকে চোখে পড়লে কোন না কোনভাবে অন্য মানুষকেও দেয়ার চেষ্টা করি। আর এই ঈদসামগ্রী বিতরণে আমার অনুভূতি ছিল দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে নিজেকে অনেক বেশি হালকা মনে হচ্ছে, অন্যের ব্যথায় ব্যথিত হয়ে কিছু করতে পারা। এসময় তিনি বিত্তবানদের সমাজের অসহায়দের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম