রিপন হোসেন সাজু,মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি।। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়েছে যশোরের মণিরামপুর। বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাতভর চলা তা-বে উপজেলাজুড়ে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, সবজি ক্ষেত, গাছপালা, বিদ্যুৎ সংযোগসহ আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আম্পান স্মরণকালের সেরা তা-ব বলে অভিমত অনেকের।
এদিকে আম্পানে ঘরের উপর গাছ পড়ে উপজেলার মশ্মিমনগরের পারখাজুরায় বৃদ্ধ দম্পতি, পিতা-পুত্রসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সমবেদনা জানান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম।
নিহতরা হলেন, ওই গ্রামের ঋষিপাড়ার খোকন দাস (৭০) ও তার স্ত্রী বিজন দাসী (৬০), দফাদার পাড়ার ওয়াজেদ আলী (৫০) ও তার ছেলে ইছা (১৫) এবং একই পাড়ার মৃত জবেদ আলীর স্ত্রী আছিয়া বেগম (৭০)।
রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই ফতেউর জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তা-বের সময় নিহতরা সবাই ঘরেই ছিলেন। হঠাৎ রাতের কোন একসময় তাদের ঘরের উপর গাছ ভেঙে পড়ে। তখন চাপা পড়ে পারখাজুরা গ্রামে পৃথক তিন পরিবারে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এসআই ফতেউর বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে খবর পেয়ে আমরা এলাকায় যাই। ততক্ষণে নিহতদের তিন জনের দাফন কাজ শেষ হয়েছে। বাকি দুই জনের শ্মশানে সৎকারের কাজ চলছিল।
মণিরামপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই দেবাশীষ গাছ চাপা পড়ে পাঁজ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনায় থানায় ডাইরি করা হয়েছে।
আম্পানের প্রভাবে মঙ্গলবার রাত থেকে মণিরামপুরে থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর বুধবার সন্ধ্যা থেকে তা-ব শুরু হয় আম্পানের। বৃষ্টির সাথে থেমে থেমে প্রবল বেগে ঝড় বইতে থাকে ভোর পর্যন্ত। এতে উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলে কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। উড়ে গেছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, স্কুল, মাদরাসা ও কলেজের চালের টিন। বড়বড় গাছ উপড়ে পড়েছে বসত ঘরসহ সড়কের উপর। ফলে রাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গাছ কেটে রাস্তায় চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।
এছাড়া বিদ্যুতের খুটি ভেঙে ও তার ছিড়ে পড়ায় বুধবার রাত থেকে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সদর দপ্তরের (মণিরামপুর) এজিএম (অপারেশন ও মেইন্টেই) মো. শফিক বলেন, আম্পানে মণিরামপুরে ২৮২ টি বিদ্যুতের পুল ভেঙে পড়েছে। ৩১টি স্পটে মেইন সংযোগের তারের উপর গাছ ভেঙে পড়েছে। ঠিকাদারগ্রুপসহ আমাদের ৩৫০জন কর্মী কাজ করছেন। ঈদের আগে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে উপরের নির্দেশনা রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তবে আম্পানের প্রভাবে উপস্থিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, আম্পানে ৩৬০ হেক্টর জমির পেঁপে, ১২৪ হেক্টর জমির কলা, ১১০ হেক্টর জমির আম এবং ১৫২ হেক্টর জমির তিলের ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা ঘুরেছি। কাঁচা ও টিনের ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
হরিদাসকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান বিপদ ভঞ্জন পাড়ে বলেন, আম্পানে আমার ঘরের উপর জামগাছ উপড়ে পড়েছে। এছাড়া ইউনিয়নের কাঁচা ও টিনের ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। গাছপালা ভেঙে রাস্তা আটকে থাকায় এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় উপস্থিত ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করা যায়নি।
নেহালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুস সাদৎ বলেন, ঝড়ে প্রচুর বড়বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। এছাড়া কাঁচা ঘরবাড়ি যে কত ভেঙেছে তার কোন হিসেব নেই।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার বলেন, সকালে পৌর এলাকার কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষেত পরিদর্শন করেছি। ঝড়ে পেঁপে ও কলা গাছ ভেঙে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে কাজ করছেন।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে গাছ পড়ে উপজেলার প্রতিটি রাস্তা আটকা পড়েছে। অনেকের চালের টিন উড়ে গেছে। আবার দূর্বল ঘর পড়েছে অনেক। মোবাইল ফোনের সংযোগ না থাকায় সব এলাকা থেকে তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে উপস্থিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না। ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বররা তথ্য নিচ্ছেন। আশাকরি দ্রুত সব তথ্য পেয়ে যাব। ঘরভেঙে ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম