স্টাফ রিপোর্টার যশোর।। রাজধানীতে মারা যাওয়া আনিসুর রহমান কলি (৫৬) নামে এক ব্যবসায়ীর মরদেহ যশোরে তার পৈত্রিক বাড়িতে এনে কারবালা গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে তার নিকটজনরা বলছেন। তবে যশোর জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি অফিসিয়ালি জানেন না। ফলে দায়িত্বশীলদের বক্তব্য, সতর্কতার সঙ্গে মরদেহ দাফন করা যেতে পারে।
মৃত কলিকে দাফনের ব্যবস্থা করতে স্বজনদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় শহরের পুরাতন কসবা এলাকার শফিকুল ইসলাম জুয়েলের নেতৃত্বাধীন ‘দাফনযোদ্ধা’দের সঙ্গে। এই টিম দাফনের যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়। রাত সাড়ে দশটায় এই রিপোর্ট লেখার সময় তারা কলিকে দাফন করছিলেন। মৃত আনিসুর রহমান কলির বাড়ি যশোর শহরের রবীন্দ্রনাথ সড়কে নতুন বাজারের পেছনে। ব্যবসাসূত্রে তিনি পুরান ঢাকার ওয়ারি এলাকায় সপরিবারে বসবাস করতেন। রাজধানীর নবাবপুরে তার কৃষি পার্টসের ব্যবসা রয়েছে।
মৃত কলির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন যশোর বড়বাজারের ইজারাদার ও সিটি কেবলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোশাররফ হোসেন বাবু। তিনি আজ বিকেলে আমাদের বাংলাদেশ কমকে জানান, কলি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। প্রথমে তাকে রাজধানীর আনোয়ার খান হসপিটালে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে গতরাতে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু তার ভাষায়, ডাক্তার না থাকায় সেখান থেকে মিরপুর ১২ নাম্বারের রিজেন্ট হসপিটালে নিয়ে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভেন্টিলেশন পাওয়ায় তা খুবএকটা কাজে লাগেনি। মারা যান কলি।
এদিকে, কলির মরদেহ নিয়ে আজ দুপুরের কিছু সময় আগে স্বজনরা যশোরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। রাত সোয়া নয়টার দিকে মরদেহ পৌঁছায় যশোরের বাড়িতে। রাত পৌনে ১১টায় কারবালা গোরস্থান থেকে মোশাররফ হোসেন বাবু আমাদের বাংলাদেশ কমকে জানান, জুয়েলের নেতৃত্বাধীন টিম মরদেহ দাফন করছে।
এর আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় কলিকে দাফন করা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন স্বজনরা। তারা যোগাযোগ করেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জুয়েলের সঙ্গে; যিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের দাফনের জন্য একটি টিম তৈরি করে রেখেছেন।
জুয়েল সুবর্ণভূমিকে জানান, তিনি এবং মীর মোশাররফ হোসেন বাবু যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মুহাম্মদ আবুল লাইছ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই দুই কর্মকর্তা তাদের জানিয়েছেন, যেহেতু তারা এই বিষয়ে অফিসিয়ালি কিছু জানেন না, তাই মরদেহ দাফন করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
এডিসি জেনারেল মরদেহ দাফনের আগে জুয়েলকে একটি দরখাস্ত পাঠাতেও অনুরোধ করেন। রাতে যোগাযোগ করা হলে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন আমাদের বাংলাদেশ কমকে বলেন, ‘এই বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। ওই ব্যক্তি যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তাহলে তা স্বাস্থ্য বিভাগকে জানানো উচিত। সেক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। আর করোনা সাসপেক্টেড কেস হলে সতর্কতার সঙ্গে দাফন করতে কোনো বাধা নেই।
’মৃত আনিসুর রহমান কলি স্ত্রী, তিন ছেলেসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। এর আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মারা যাওয়া শার্শার চটকাপোতা গ্রামের বাসিন্দা মো. হুমায়ুন কবীর নামে এক ব্যক্তিকে দাফন করে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। আর চাঁদরাতে যশোর শহরের কারবালা গোরস্থানে একই সংস্থা দাফন করে আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল ইসলাম রন্টুর ছেলে তমালকে। তিনিও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আগের দিন ঢাকায় মারা গিয়েছিলেন। এই নিয়ে করোনাভাইরাসে মৃত তিনজনকে দুই দিনে যশোরে দাফন করা হলো।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম