রাজিবুল হক।। আমরা যারা পুলিশেরর সামান্য দোষ ত্রুটি নিয়ে মুখোরোচক গল্প করি তাঁরা কি একবারের জন্যও চিন্তা করেছেন পুলিশের সীমাবদ্ধতা নিয়ে? পুলিশের সীমাবদ্ধতার বিষয়ে অনেক অজানা কাহিনীই আমাদের সুশীল সমাজের লোকজন জানেন না। দোষ ত্রুটি নিয়ে আলোচনা সমালোচনায় মনোবল ভেঙ্গে পড়ে না বরং পুলিশের কর্মস্পৃহাকে দ্বিগুন উৎসাহিত করে পুর্ববর্তী ভুলগুলো শুধরাতে পারি।
পুলিশও মানুষ! দেশসেবার একবুক আশা নিয়ে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করে। ইতিহাস সাক্ষী একমাত্র পুলিশ কখনো জাতির সাথে বেঈমানি করেনি। সমালোচক শুধু সমালোচনা করে, পুলিশের সীমাবদ্ধতা বোঝে না। সমাজের কুখ্যাত আসামী ধরে চালান দেওয়ার পরপরই যখন জামিন পেয়ে পুলিশের সামনে দিয়ে কলার উচু করে ঘুরে বেড়ায় কেউ কখনো বুঝবে তখন পুলিশের মনের বেদনার কথা। তখনও আমজনতা মনে করেন পুলিশ মোটা অংকের টাকা বানিজ্য করে ছেড়ে দিছে।
চলতি বছরে লক ডাউনে সবাই যখন গৃহবন্ধি, পুলিশ তখন স্ত্রী, সন্তানের চিন্তা ব্যতিরেখে পাবলিককে করোনা ভাইরাস সংক্রামক বিস্তার রোধে ঘরে রাখতে চোর পুলিশ খেলায় ব্যস্ত সময় পার করে। অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের ছোট বাচ্ছার সাথে দেখা হয় ঘুমন্ত অবস্থা। কারণ ভোরে ঘর থেকে বের হয় ফিরে গভীর রাতে। বাবার আদর কি সন্তানেরা পায়না।
সারাদিন চোর-পুলিশ খেলা, করোনা আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা, দাফন কাফন, জানাযায় অংশগ্রহন, রাতের আধারে বাড়ির দরজায় অভুক্তদের খাদ্য উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, অপ্রীতিকর ঘটনা রোধকল্পে হাইওয়ে রাস্তা, অলিগলি, গ্রামে পুলিশী টহল দিয়ে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা প্রদান করে।
পুলিশ ও জানে পুলিশের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা বেশি। তাইতো একটু ত্রুটি বিচ্ছুতিতে সুশীলেরা পুলিশের জাতগোত্র আলাদা করে। উৎসবের দিনে, মহামারি, বন্যা ছাড়াও ছোট্ট ইস্যুতে প্রায়ই পুলিশের ছুটি বন্ধ। বাৎসরিক ২০ দিনের ছুটিও অধিকাংশ পুলিশ সদস্য নিজের সুবিধামত ভোগ করতে পারে না। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরে পরিবার ছাড়া ঈদ উৎসব কেমন পানসে লাগে জাতি কিছুটা টের পেয়েছে।
এমন অসংখ্য ঈদ উৎসব থেকে বঞ্চিত হয় পুলিশ সদস্যরা। ঈদের নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতি সেরে ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে ঈদগাহের উদ্দ্যেশে রওনা দেওয়ার সময় অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পেয়ে পাঞ্জাবি খুলে ইউনিফর্ম পরে কলিজার টুকরা সন্তান রেখে দ্রুত ঘটনাস্থলে রওনা দেওয়ার যন্ত্রণা পুলিশই জানে।
কলিজার টুকরা সন্তান, স্ত্রী, মা-বাবা ছাড়া ঈদ উৎসবে সবাই যখন নতুন বাহারি রংয়ের জামা গায়ে ঈদগাহ্ তে সবাই যখন নামাজ পড়ে তখন পুলিশ ইউনিফর্ম, বুট পরে অস্ত্রগুলিসহ অশ্রুসিক্ত নয়নে দাড়িয়ে ডিউটি পালন করে। একমাত্র পুলিশই বোঝে উৎসবের দিনে আপনজন দুরে রেখে এমন ডিউটি পালন করা কতটা যন্ত্রণা বাহন করে।
মোঃ রজিবুল হক (এএসআই)
ডিবি, চুয়াডাঙ্গা
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম